চাঁদপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কাজ করেছেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে।
সোমবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।
পরে একই মাঠে তার জানাজা হয়। এতে ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শফিকুর রহমানের ভাতিজা আদনান হাবীব বলেন, শুক্রবার রাতে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে ৮২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
শফিকুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের দুই মেয়াদে সভাপতি ও দুইবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা নিতে যুক্তরাজ্য ও জাপানেও গিয়েছিলেন তিনি।
