০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমি সেই হতভাগ্য পিতা, যার কাঁধে সন্তানের লাশ’, তৌকিরের জানাজায় বাবা

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরকে রাজশাহীতে শায়িত করা হয়েছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2025, 09:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

ঢাকায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরকে রাজশাহীতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর সপুরা গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। 

দাফনে অংশ নেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক, আত্মীয়-স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ সেনা ও বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ হাজারো মানুষ।

জানাজার আগে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন তৌকিরের বাবা তহুরুল ইসলাম ও মামা মতিউর রহমান। 

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তহুরুল ইসলাম বলেন, “আমি সেই হতভাগ্য পিতা, যে সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছি। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। যারা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের সবার জন্য দোয়া চাই।”

দুপুর ৩টায় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তৌকিরের মরদেহ ঢাকা থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় নগরীর উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরে তাদের ভাড়া বাসায়। 

তৌকিরের মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কিছু সময় বাসার সামনে রাখা হয় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স। এরপর মরদেহ জানাজার জন্য নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে।

তৌকির ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ রাজশাহীতেই বসবাস করতেন। রাজশাহীর ল্যাবরেটরি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর পাবনা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। 

সেখান থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। বছরখানেক আগে তার বিয়ে হয়। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।

সোমবার প্রশিক্ষণের শেষ ধাপে ‘সলো ফ্লাইট’ পরিচালনার সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয় তার যুদ্ধবিমান। ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।