২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

রাবির দ্বাদশ সমাবর্তন: তিন দাবিতে একাংশের বর্জন, প্রশাসন অনড়

আগামী ১৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Dec 2025, 04:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:15 PM

অতিথি পুনর্বিবেচনাসহ তিন দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-রাবি’র আসন্ন দ্বাদশ সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। দাবি মানা না হলে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করবেন না বলেও জানান তারা।

তবে যথাসময়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক শিক্ষার্থীদের কয়েকজন সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- অতিথি পুনর্বিবেচনা, তারিখ পুনর্বিবেচনা ও রেজিস্ট্রেশনের সময় পুনরায় উন্মুক্তকরণ। সেইসঙ্গে সমাবর্তনের বাজেট ও ব্যাংক হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তারা।

লিখিত বক্তব্যে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “২০২৩ সালের নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অযৌক্তিক। ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক সময় নয়। মাসের মাঝামাঝি সপ্তাহের দিনে আয়োজন করায় অনেকেই অংশ নিতে পারবেন না।”

অতিথি তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে কাউকে অসম্মান করতে চান না জানিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে অতিথি করে সমাবর্তন আয়োজন করা হোক। প্রশাসন যদি আমাদের উপেক্ষা করে সমাবর্তন আয়োজন করতে যায়, সেক্ষেত্রে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের ওপর বর্তাবে।

“বিশেষ করে, যদি অতিথিদের সঙ্গে অসম্মান করার ঘটনা ঘটে কিংবা আমাদের অন্য কোনও প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের সমাবর্তনে বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী থাকবে।”

সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন আবার উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “নানা সীমাবদ্ধতায় অনেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি; তাই পুনরায় এটি উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া ফি কোন ব্যাংকে রাখা হয়েছে, কী পরিমাণ লভ্যাংশ এসেছে এবং পুরো সমাবর্তনের বাজেট প্রকাশ করতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের সবার সিদ্ধান্তে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কি-না সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, “এটি একক সিদ্ধান্ত নয়; মেসেঞ্জার গ্রুপে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে ২০১২-১৩ শিক্ষার্থী রাসেল কবির এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সমাবর্তনেই রাষ্ট্রপতি বা সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন, এমনটি নয়। এবারের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি শিক্ষা উপদেষ্টাকে মনোনীত করেছেন।

“আমন্ত্রণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও ভেন্যু প্রস্তুতির কাজ অনেক এগিয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়েই সমাবর্তন হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর সমাবর্তনে সভাপতি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার। এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ উপস্থিত থাকবেন।