২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মায় পানি বাড়ছেই, নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দি মানুষ, স্কুল বন্ধ

এ অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলার অন্তত ১৩টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Aug 2025, 06:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

এ অবস্থায় উপজেলার অন্তত ১৩টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব স্কুলে বন্যার্ত মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নীচে অবস্থান করেছে। বর্তমানে পানি বাড়ার হার আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পানি বাড়ার যে হার বর্তমানে আছে, সেটা আগামী দুইদিন অব্যাহত থাকবে; তারপর থেকে পানি কমতে শুরু করবে।

“এক্ষেত্রেও বিপৎসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই। তবে এরই মধ্যে প্লাবিত হওয়া রাজশাহী জেলার নিম্নাঞ্চলের পানি নেমে আসায় স্থিতাবস্থা অপরিবর্তনীয় থাকবে।”  

পাউবো বলছে, ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণেই পদ্মায় পানি বেড়েছে। ১০ দিন ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বাড়ছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টের বিপৎসীমা হল ১৫ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। 

একই অবস্থা পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে; সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

সরজমিনে দেখা যায়, দৌলতপুরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সেখানকার হাজার হাজার মানুষ। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু-একদিনের মধ্যেই এসব এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাবাসী। 

এদিকে বন্যাকবলিত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির মরিচ, সবজি, কলা, ভুট্টা, ধান ও পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, চরাঞ্চলের যোগাযোগের রাস্তায় পানি ঢুকে পড়ায় চিলমারী ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়বে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তার ইউনিয়নের নদীর ওপারের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, যার অধিকাংশই পানিবন্দি। ঘরবাড়িতে এখনও পানি ওঠেনি, তবে মাঠের আবাদি ফসল বিশেষ করে মরিচ, সবজি, পাট ও ধান ক্ষেত ডুবে গেছে।

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৩টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকবে যাতে বন্যাকবলিত মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির মরিচ, রোপা আউশ, কলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ভুট্টা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। নিচু এলাকার কিছু বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, পদ্মা নদীতে পানি  বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ইউএনও।