খাগড়াছড়িতে ৩ ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি, সড়কে ধস
দীঘিনালা-মেরুং সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি--দীঘিনালা সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দীঘিনালায় মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা।
চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান খান বলেন, বর্ষাকালে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী মেঘগুচ্ছ বা ইনটেন্স ক্লাউড সেল তৈরি হতে পারে। এসব মেঘগুচ্ছ অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি ঘটাতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সমুদ্রে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আগে বা এর অনুকূল আবহাওয়ায় এ ধরনের মেঘগুচ্ছ তৈরি হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপ তৈরির নিশ্চিত লক্ষণ নয়। বর্ষাকালে স্থানীয় তাপ, বাতাসে জলীয়বাষ্প, বায়ুর মিলন এবং পাহাড়ি এলাকার প্রভাবে নিম্নচাপ ছাড়াও এমন মেঘ তৈরি হতে পারে।”
আব্দুর রহমান খান জানান, দীঘিনালার পাশাপাশি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একই ধরনের আবহাওয়া দেখা গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দীঘিনালা বা সিংগাইরের ঘটনাকে সরাসরি ক্লাউড বার্স্ট বলা যাবে না। কারণ ক্লাউড বার্স্ট বলতে সাধারণত ছোট এলাকায় খুব অল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাতকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে শুধু ৩ ঘণ্টার মোট বৃষ্টির পরিমাণ নয়, এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ কত বৃষ্টি হয়েছে এবং কতটা এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে—তাও দেখতে হয়।”
শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালি ও বোয়ালখালী এলাকার নিচু অঞ্চল। অনেক এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে।
আকস্মিক এমন ভারি বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানিতে ডুবে গেছে আমনের ক্ষেত। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
দীঘিনালার চৌমুহনী এলাকার জগন্নাথ পাড়ার বাসিন্দা মৃদুল নাথ বলেন, “রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। গত মাসের শুরুতে যে বন্যা হয়েছিল, তখন আমাদের বাসায় পানি ঢোকেনি।
“কিন্তু গতরাতের মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানি উঠে গেছে। আশপাশের যে পাহাড়ি ছড়াগুলো রয়েছে, সেগুলোতেও প্রচুর পানি।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত দে বলেন, “হঠাৎ করেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাত ১২টায় শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়।”
লোকমান হোসেন বলেন, “আশপাশের এলাকাগুলো ডুবে গেছে। ভোর ৪টা থেকে ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।”
মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়াগুলো হড়কা বান বা ফ্লাশ ফ্লাড তৈরি হয়েছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা ডুবে গেছে।
বোয়ালখালীর বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরা বলেন, “রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। ছড়ায় খুব একটা পানি ছিল না। এত বৃষ্টি এ বছরে আর দেখি। মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হয়েছে।
“ছড়ার উপরের দিকে তৈদুছড়াসহ অন্যান্য যে এলাকাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। ছড়ার পানি বেড়ে এখানকার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।”
এদিকে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ, যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, “খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
“যে অংশটি ধসেছে, সেটি বেশ বড়। তবে ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মাটি সরাতে কিছুক্ষণ সময় লাগতে পারে,” বলেন তিনি।
