ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে ঘর থেকে টেনে পিষ্ট করে মারল বন্যহাতি
শেরপুর সীমান্তে হাতির দল ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে ঘর থেকে টেনে বের করে বাড়ির আঙিনায় ফেলে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ও পায়ে পিষ্ট করে হত্যা করে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা সীমান্তে বন্যহাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় হাতির দল বৃদ্ধার বসতবাড়ি তছনছ করেছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার বাতকুচি নামাপাড়া পুরোনো ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী।
নিহত ছুরতন নেছা (৬৫) ওই গ্রামের প্রয়াত রঙ্গু শেখের স্ত্রী।
রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, একদল বন্যহাতি গভীর রাতে বাতকুচি ও পলাশিকুড়া এলাকায় তাণ্ডব চালায়। এক পর্যায়ে রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে ওই বৃদ্ধার ঘরে বন্যহাতি আক্রমণ চালায়।
এ সময় হাতির দল ঘুমন্ত ছুরতন নেছাকে ঘর থেকে টেনে বের করে বাড়ির আঙিনায় ফেলে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ও পায়ে পিষ্ট করে তাকে হত্যা করে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গত বছরও ওই বৃদ্ধার বসতবাড়ি বন্যহাতির দল তছনছ করেছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ার কারণে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এমনকি ইআরটি সদস্য ও বন বিভাগের লোকজনও ঘর থেকে বেরোতে পারেননি।
ছুরতন নেছার পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে আবেদন করা হলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান বন বিভাগের এই কর্মকর্তা।
শুক্রবার দুপুরে নালিতাবাড়ী থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে বন্যহাতির দল মধুটিলা ইকোপার্কে হানা দিয়ে ক্যান্টিন ভাঙচুরের পাশাপাশি ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে।
এর আগে ২০ মে রাতে ঝিনাইগাতি উপজেলার বড় গজনী সড়কের দরবেশ তলা ও গজনী-বাকাকুড়া সড়কে বন্য হাতির আক্রমণে দুইজন নিহত হয়।
