ফেনীতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ ডোবা থেকে উদ্ধার
জোবায়ের বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়।
ফেনীতে নিখোঁজের এক দিন পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে এক স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের নগরকান্দা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন।
নিহত জোবায়ের রাবিন (১০) নগরকান্দা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ ওমরের ছেলে। সে চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জোবায়েরের বাবা মোহাম্মদ ওমর বলেন, জোবায়ের বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় জুবায়েরের মরদেহ ভাসতে দেখতে পাওয়া যায়। পাশে জুবায়েরের বাইসাইকেল ও স্যান্ডেল পড়েছিল।
ওমর বলেন, তার দুই ছেলে জোবায়ের ও জাবের বিএএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির যমুনা শাখার ছাত্র। একজনের রোল ১৬৭, অপরজনের ১৬৮। তারা দুজন চট্টগ্রামে থাকলেও ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলে। সকালে তাদের চট্টগ্রাম ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
ওমর অভিযোগ করেন, তার দুই ছেলেই সাঁতার জানে। জোবায়েরের সাইকেলের সামনের চাকায় বাতাস কম ছিল। জোবায়ের কোনোভাবে ডোবার অল্প পানিতে ডুবে মারা যেতে পারে না।
“মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মুখে ফেনা ও রক্ত দেখা যায়। কেউ পূর্ব শত্রুতার জেরে ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
“প্রাথমিক তদন্তে এটি দুর্ঘটনা বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। সাইকেল চালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যদি কোনো বিষয় প্রতীয়মান হয় সেই বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এটি হত্যা না দুর্ঘটনা সেই তদন্তে কাজ করছে পুলিশ।
