০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমার নদী এখন পৌর বর্জ্যের ভাগাড়

“ঝড়-বাতাস শুরু হলে এ ময়লার স্তুপ বাতাসে উড়ে সারা বাজার ছড়িয়ে পড়ে।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 06:56 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে কুমার নদীতে। এতে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কারণে নদীর পানি গৃহস্থালিসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মিঠাপানির প্রবাহমান কুমার নদী একসময় জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছে সমৃদ্ধ ছিল। নদীটি এখনো দুই তীরের কৃষিজমিতে সেচের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মুকসুদপুর পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীতেই বর্তমানে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির জানান, খাসজমিতে স্থায়ী বর্জ্য ভাগাড় নির্মাণের জন্য চিঠি পেয়েছেন। উপযুক্ত খাসজমি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।

মুকসুদপুর পৌরসভা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০০০ সালের ২০ মার্চ ১৭ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে মুকসুদপুর পৌরসভা গঠিত হয়। নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটি ২০১৭ সালে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। কুমার নদীর তীরে অবস্থিত এ পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ৯৫৯।

প্রথম দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হতো। পরে গোপীনাথপুর আটাডাঙ্গা বাওড়ে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডীবর্দী এলাকায় কুমার নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চণ্ডিবর্দী গ্রামের মবিন শেখ বলেন, “প্রতিদিন পৌরসভার গাড়িতে বর্জ্য এনে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানিতে বর্জ্য মিশে নদীর পানি নষ্ট হচ্ছে। মশা-মাছি জম্ম নিচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।”  

ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম কনক বলছিলেন, “ঝড়-বাতাস শুরু হলে এ ময়লার স্তুপ বাতাসে উড়ে সারা বাজার ছড়িয়ে পড়ে। আর বৃষ্টি হলে পচন ধরে মারাত্বক দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।”

উত্তম কুমার নামের এক পথচারী বলেন, “দুর্গন্ধে বাজারের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। আমাদের বেশিরভাগ সময় কাপড়ে মুখ চেপে চলাফেরা করতে হয়। অনেকে এ পথ্য এড়িয়ে অন্যপথে চলাচল করছেন।”

টেংরাখোলা বাজারে ব্যবসায়ী হাসান মোল্যা বলেন, “বাজারে জবাই করা গরুর বর্জ্য ও পচা ফল-সবজি মিশে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। বাতাস এলেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিবেশে বাজারে বসে ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর।”

নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি কতটা জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, “সাধারণত রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, খাবারের টুকরো ও শাকসবজির খোসা পচনশীল বর্জ্য। কাগজ, কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক বোতল, কাচ ও ধাতব পাত্র পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য। নষ্ট হওয়া মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ই-বর্জ্য। হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য, ব্যবহৃত ব্যাটারি ও রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য।”

তিনি বলেন, “যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হলে পরিবেশের ক্ষতি হয়। বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী পৌর কর্তৃপক্ষ এটির ব্যবস্থাপনা করবে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকলে পৌরসভার পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, “উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেললে ওই বর্জ্য থেকে নানা ধরনের রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে বর্জ্যের ওপর বসা মাছি খাবারে বসলে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে শুধু মানুষ নয় বিভিন্ন প্রাণীও আক্রান্ত হতে পারে।”

এ বিষয়ে মুকসুদপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, খাসজমিতে স্থায়ী বর্জ্য ভাগাড় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি পেয়েছেন। বর্তমানে উপযুক্ত খাসজমি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। জমি নির্বাচন শেষে দ্রুত ভাগাড় নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বড় ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে।