ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: সিরাজগঞ্জের তরুণ নিখোঁজের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ওই তরুণ নিখোঁজ হন বলে দাবি স্বজনদের।
অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এক তরুণ নিখোঁজের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উল্লাপাড়া থানার এসআই সুমন মাহমুদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পূর্নিমাগাতি ইউনিয়নের ঘিয়ালা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, তার মেয়ের জামাই একই উপজেলার মধ্যবড়হর গ্রামের মোন্নাফ প্রামানিক এবং মোন্নাফের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন।
নিখোঁজ রাকিব হোসেন স্বাধীন (২৩) উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভুতগাছা গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ফিরোজের ছেলে।
এদিন রাতেই স্বাধীনের বাবা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার বরাতে এসআই সুমন মাহমুদ বলেন, “স্বাধীনকে ইতালি পাঠানোর জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেন দালাল কালাম। এরপর চলতি বছরের ২২ মে স্বাধীন বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তাকে প্রথমে ভারতের চেন্নাই, এরপর পর্যায়ক্রমে দুবাই, শ্রীলঙ্কা, মিশর ও সবশেষ লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়।
“মাঝপথে স্বাধীন আটক হয়ে কারাগারে আছেন, এমন কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই দফায় আরও ১০ লাখ নেয় দালাল কালাম। এ অবস্থায় ১২ নভেম্বর লিবিয়ার উপকূল থেকে একটি ট্রলারে করে ১২২ জনকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করেন দালালরা।
“স্বজনদের দাবি, কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রলারটি আংশিক ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা স্বাধীনসহ ৯৭ জনকে মারধরের পর হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর স্বজনরা শনিবার বিকালে দালাল কালামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।”
এসআই সুমন মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নিখোঁজ স্বাধীনকে জীবিত অথবা মৃত ফিরে পেতে বাড়িতে আহাজারি করছেন স্বজনরা। এজন্য তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
