‘আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে পারেন’, যশোরে লাইব্রেরিতে পাঠক ‘নিষিদ্ধ’
ওসি বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষকে বলেছি, পাবলিক লাইব্রেরি যাতে আন্দোলনকারীরা ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে।”
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির পাঠকক্ষে আপাতত কোনো পাঠককে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেখানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে পারেন- পুলিশের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে ‘সতর্কতা হিসেবে’ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার লাইব্রেরিতে কোনো পাঠককে প্রবেশ করতে দেয়নি।
এ ছাড়া সকাল থেকেই লাইব্রেরি চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি দেশের পুরনো পাঠাগারগুলোর অন্যতম। এ পাঠাগারের পাঠকক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠকরা আসেন। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীও আসেন পাঠ্যবই পড়ার জন্য; যারা টাকা-পয়সার অভাবে বই কিনতে পারেন না।
এ ছাড়া এ পাঠাগারকে কেন্দ্র করে সেখানে আড্ডা জমে পাঠক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের।
কিন্তু মঙ্গলবার সেই লাইব্রেরিতে কোনো শিক্ষার্থী বা পাঠকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির পাঠকক্ষের অফিস সহকারী শওকত হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার সকালের দিকে একদল পুলিশ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন। এরপর পুলিশের একজন কর্মকর্তা আমাদের হেড ক্লার্কের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর হেডক্লার্ক আমাকে জানান, লাইব্রেরিতে কাউকে যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “এখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন পাঠক আসেন। এদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। যারা আসছেন, তাদেরকে নিষেধ করার পর ফিরে যাচ্ছেন।”
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান লাইব্রেরি সহায়ক বানেশ বিশ্বাস বলেন, “সকাল থেকে ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরির সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। কখনও এর সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ পাঠকরা অনেকটা উদ্বিগ্ন।
“এরই মধ্যে যশোর কোতোয়ালি থানার একজন কর্মকর্তা আমার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, এখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে অবস্থান নিয়ে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে- সে বিষয়ে আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এসব দিক বিবেচনায় সতর্কতার কারণে আমরা আজ লাইব্রেরিতে কোনো পাঠকের প্রবেশের অনুমোদন দিচ্ছি না।”
তিনি বলেন, “পুলিশ যেহেতু বলছে, আমাদের লাইব্রেরিতে কেউ অবস্থান নিয়ে পরবর্তীতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তার দায় আমাদের নিতে হবে- সেই কারণে আমরা আপাতত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে রাতে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে কেন লাইব্রেরিতে পাঠকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সেটি জেনে আপনাকে জানাতে পারবো।”
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পাবলিক লাইব্রেরি পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে এটি একেবারেই সত্য নয়। জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি, পাবলিক লাইব্রেরি যাতে আন্দোলনকারীরা ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে।
“এসব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়তো এখানে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুলিশের বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
