জাতিসংঘের সামনে ভাষা শহীদদের স্মরণ
“আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতির দায়িত্বও অর্পণ করছি।”
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় একুশের প্রথম প্রহর) দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পার্কে অস্থায়ী শহীদ মিনারে সর্বকনিষ্ঠ শিশুর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রবল বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে সম্মিলিত কণ্ঠে ভাষা দিবসের গান, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আজকের এ আয়োজনে মাধ্যমে আমরা শুধু অতীতকেই স্মরণ করছি না, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতির দায়িত্বও অর্পণ করছি।
“আমি বিশ্বাস করি, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হবে, বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় আরো অঙ্গীকারবদ্ধ হবে।”
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সাবেক উন্নয়ন গবেষণা প্রধান ও নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা-২০২৬ এর আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ‘বাঙালির চেতনা মঞ্চ’র চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, কমিউনিটি লিডার সাখাওয়াত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দীন আহমেদ সোহাগ, ব্রঙ্কস সোসাইটির জহির উদ্দীন ও বিজয় সাহা।
মোহাম্মদ শাহীন হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রয়ারি’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি, তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি’, ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা-কারো দানে পাওয়া নয়’। তবলায় ছিলেন হারাধন কর্মকার।
ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা গানটি গিটারে পরিবেশন করেন কাব্য। ‘একুশ আগুন রঙের পাখি’কবিতা আবৃত্তি করেন ভাষা সাহা।
