সংসদে সরব বিরোধীরা; জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘ভাঙা রেকর্ড’
সরকারি দলের নেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির উদাহরণ টানলেন, সেদিকে চোখ দিতে বললেন বিরোধী নেতাদের।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে সংসদে কণ্ঠ তুললেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তাদের বক্তব্যকে ‘ভাঙা রেকর্ড’র সঙ্গে তুলনা করলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
মহামারীর পর ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একেবারে ৫০ শতাংশের মতো বাড়ায় সরকার। এতে চড়তে থাকা দ্রব্যমূল্য এতে আরও বেড়ে যায়, বাড়ে পরিবহন ভাড়াও।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সাম্প্রতিক সমস্যায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ দেশবাসীকে জানাতে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় আনা সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী সদস্যরা সমালোচনার ঝড় তোলেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
সরকার জ্বালানি কূটনীতিতে ‘মনোযোগী নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, ওপেকভুক্ত বড় তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের স্থায়ী কোনো চুক্তি করার উদ্যোগ নেই।
“বরং ছিল স্পট মার্কেট থেকে আমদানি প্রীতি। কারণ এটার মধ্যে অন্তর্নিহিত কোনো স্বার্থ আছে। প্রাথমিক জ্বালানির উৎস এবং সরবরাহ নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয়েছে।”
ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে তিনি বলেন, “বলা নাই, কওয়া নাই, এক লাফে ৪১ থেকে ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একক কোনো পণ্যের দাম এত বৃদ্ধি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এ কারণে সমস্ত জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
“সরকারের লোকেরা প্রত্যক্ষ করেন কি না, জানি না। কিন্তু আমরা দেখি মানুষ আসলেই খুব খারাপ অবস্থায়। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মানুষ বাজারে গেলে তাদের গায়ে আগুন লেগে যায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে।”
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, “একটি গল্প বলব। সেটা হল, এক দেশে ছিল একটা রুটির দোকান, রুটির দাম ছিল ৫ টাকা। এই দাম দিয়ে রুটিওয়ালার পোষায় না। তার সংসার চালাতে কষ্ট হয়। রুটিওয়ালা ১০ টাকা করার চেষ্টা করে। সেটা হলে দোকান চালানো সম্ভব। সে তখন রাজা মশাইয়ের কাছে গেল, তাকে ঘটনা খুলে বলার পর, রাজা বললো কী চাস? বললো ১০ টাকা হলে হয়। রাজা বললেন, তুই উজিরের কাছে যা। উজির কাছে গিয়ে ঘটনা বলার পরে, সে বললো এটা কোনো সমস্যা নাকি? যা ১০ টাকা না, রুটির দাম ৩০ টাকা করা হল। এরপর বিশাল জন অসন্তোষ, তখন রাজার কাছে বিষয়টি আসল। রাজা বলল, এই উজির তুমি কী করলা? উজির বলল, হুজুর ও তো বলছে ৫ টাকা বিক্রি করলে পোষে না, ১০ টাকা চেয়েছিল, আমি সেটা ৩০ টাকা বাড়িয়েছি। তখন রাজা বললো ধুর! জনগণ খুশি হোক, ১৫ টাকা কমানো হল। আমাদের অবস্থা কী এরকম? বিদ্যুৎ মন্ত্রী জবাব দেবেন।”
বিভিন্ন ব্যাংকে বিপিসির ২৫ হাজার ২৬৪ কোটি জমা থাকার তথ্য তুলে ধরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী চুন্নু বলেন, “ওই ব্যাংকগুলোর অবস্থা কাহিল। মানুষকে ঋণ দিয়ে তাদের এখন মূলধন নেই। বিপিসি চাইলেও টাকা ক্যাশ করতে পারবে না।”
বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম সিঙ্গাপুরের দিকে। কেন জানি না, শ্রীলঙ্কার দিকে যাত্রা করলাম।
“প্রশ্ন হল, এই সঙ্কট কি ভুল নীতির কারণে? নাকি ভয়ঙ্কর লুটপাটের অনিবার্য পরিণতি। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের কিছু অলিগার্ক তৈরি করে থাকতে হয়। বাংলাদেশেও তাই হয়েছে। সিন্ডিকেটের স্বার্থে একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলেও সঞ্চালন লাইনের অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি।”
জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “সরকার অনেক ভুল করেছে। এখন সময় ভুল স্বীকার করার, যাতে ভবিষ্যতে এই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা খরচ করেছি, কিন্তু রিটার্ন কী হবে, এটা হিসাব করি নাই। উন্নয়নের অতিউৎসাহ, অতি আনন্দে কিছুটা উদ্ভাসিত হয়ে গিয়েছিলাম।”
বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, “বিপিসির টাকা কোথায় গেল? ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেসব ব্যাংকে কেন বিপিসির টাকা রাখা হল।”
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “মন্ত্রীরা ব্যর্থতা ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। দেশে অভাব নেই, এটা ঠিক নয়। কিন্তু মন্ত্রীরা এটা স্বীকারই করতে চান না। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে সরকারের অনেকে জড়িত।”
জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “বৈশ্বিক বাজারে বৃদ্ধির ফলে কিছু দ্রব্যের দাম বাড়বে এতে কিছু করার নেই। কিন্তু নিশ্চয় কিছু ভুল আছে। আইএমএফের কাছে চার বিলিয়ন ডলার চাওয়া হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি ডলার আনা যেত যদি ‘সিস্টেমিটিক্যালি’ টাকার অবমূল্যায়ন করা হত বা প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা বাড়ানো হত।”
সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রে আছে কিছু ক্ষুদ্র ধনিক ও আমলা গোষ্ঠী। তাদের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। জ্বালানি তেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক কথা বললেন, আর কর্মকর্তারা আরেক কথা বললেন।
“বৈশ্বিক কারণ আছে, এটা ঠিক। কিন্তু নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখা দরকার, নীতি সঠিক কি না। জ্বালানি নীতি মূলত আমদানিনির্ভর। এ কারণে জ্বালানি সঙ্কটের সময় এ খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। জ্বালানি তেলের যে দাম কমানো হয়েছে, তা হল গরু মেরে জুতো দান।”
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রীদের অতিকথনের সমালোচনা করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা প্রকাশ করছেন, ধৈর্য ধরার আহ্বান করছেন। সেখানে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ঠাট্টা-মশকরা করছেন। এটা মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক। আমি এর নিন্দা জানাই। দায়িত্ব পালন যারা করতে পারবেন না, তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মানুষকে বাঁচান, প্রধানমন্ত্রীকেও বাঁচান।”
তিনি বলেন, “আমরা বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি মোকাবেলা করতে পারছি না। পরিবহনের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা করতে পারছি না। ডলার সঙ্কটের ব্যবস্থাপনা মোকাবেলা করতে পারছি না। প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে। উল্টোপাল্টা কথাবার্তা দেখা দিচ্ছে। এরজন্যই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। বাজার অস্থির করে তুলছে।”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের এই নেতা নিজের ও সরকারের পক্ষ থেকে মাফ চেয়ে বলেন, “আমরা জানি মানুষ কষ্টে আছে। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতির জন্য আমি আমার ও সরকারের তরফ থেকে জনগনের কাছে মাফ চাচ্ছি।”
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে। এটা ঠিক, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়নে সরকারের ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
“সব কিছুরই দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বিভিন্ন পণ্যের দেশে দাম বেড়েছে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন কমছে, তখন দেশে দাম বাড়ানো হল। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজির কথা। এখানে সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে এটি হত না।”
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর জবাব
বিরোধী দলের সমালোচনার পর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কাসহ নানা কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
আরও আগে না বাড়ানোর কথা তুলে তিনি বলেন, “বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম উচ্চে উঠেছিল, সেই সময় বৃদ্ধি করলে লিটার প্রতি ৬০ টাকা বাড়াতে হত। বিশ্বে তেলের দাম আস্তে আস্তে কিছুটা কমার পর দাম সমন্বয় করেছি।”
জাতীয় পার্টি-বিএনপির শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চিত্র স্মরণ করিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার মনে হয়, বিরোধী দলের গোল্ডফিশ মেমোরি। সব কিছু তারা ভুলে গেছেন। কীভাবে সরকার চালিয়েছিলেন এবং এখন তারা কোথায় আছেন। ভুতের মুখে রামনাম!
“জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ছিল ৪৪ শতাংশ। বিএনপির সময়ে ছিল ২২ শতাংশ। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় সিস্টেম লস ৭ শতাংশ। বিশ্বের সব চেয়ে স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম লস হচ্ছে ৭.৬ শতাংশ। আপনারা চোখ বন্ধ করে থাকেন, এজন্য বিদ্যুৎ আছে কী নেই, দেখতে পান না। হয়ত সেই পুরনো কথা মনে হয়, খাম্বা আছে। মাথা থেকে ওই জিনিস যায়ইনি।”
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের কাছে একটু গঠনমূলক পরামর্শ আশা করছিলাম। কিছুই আসলো না। ওই একই ভাঙা রেকর্ড- ক্যাপটিভ পাওয়ার, রেন্টাল পাওয়ার, ক্যাপাসিটি চার্জ। এর মধ্যেই তারা ঘুরপাক খাচ্ছে। এর থেকে বেরুতে পারছেন না।”
বিএনপির হারুনুর রশিদকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনি কুরআনের আয়াত বললেন- ‘সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না’। আপনারাই তো মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। তো মিথ্যাকে দিয়ে মিথ্যা ঢাকবেন কীভাবে? সারাক্ষণই মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিপিসি লাভ করেছে। তা আপনারা কি চান, সরকারি সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাক। ৪৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দেওয়া হয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য।”
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে নসরুল বলেন, “আপনারা সারক্ষণ ফেইসবুক, স্যোশাল মিডিয়ার তথ্য দিয়ে যাবেন, স্যোশাল মিডিয়া একটু খুলে দেখেন। পরিস্থিতি কী? কী অবস্থা জার্মানির? তাদের ৪০ শতাংশ গ্যাস কার্টেল করতে হবে। তারা বিপদে আছে শিল্প চলবে কীভাবে? শীতকালে বয়স্ক মানুষেরা কীভাবে হিটিং সিস্টেম চালাবে? ইউকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ কাটঅফ করবে।
“আপনাদের বলতে চাই, এতই যখন ফেইসবুক থেকে তথ্য নেন। আল্লাহর ওয়াস্তে গুজবে কান দেবেন না। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতে এই দেশ হবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একটি দেশ। আমরা সেই পথেই আছি।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ যখন শুরু হল, ১৭০ ডলার হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। এক সংসদ সদস্য বলেছেন, সেই সময় কেন দাম বাড়ানো হল না? আরে সেই সময় যদি আমরা দাম বাড়াতাম, তাহলে প্রতি লিটার ৬০ টাকা করে বাড়াতে হত। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম দামটা একটু কমুক, তখন অ্যাডজাস্টমেন্টে যাবো। দাম আস্তে আস্তে কমে ১৩৯ ডলার যখন হয়েছে, ভারতের থেকে তখনও আমাদের ৪০ টাকা লিটার প্রতি পার্থক্য ছিল। যার কারণে সম্ভাবনা ছিল ভারতে তেল পাচার হয়ে যাওয়ায় … সেই কারণে আমাদের একটি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
“বৈশ্বিক অবস্থা, তেলের ঘাটতি, উর্ধ্বমুখী তেলে দাম এবং পাচার হওয়ার ঘটনা অনেক কিছু মিলিয়ে এই দাম আমাদের সমন্বয় করতে হয়েছে। আমরা তো দাম বৃদ্ধি করিনি। আমরা সমন্বয় করেছি। অস্বীকার করার কিছু নেই। আমরা জানি সকলেই কষ্টে আছেন। আমরা এটা বার বার বলেও আসছি। সারা পৃথিবীর মানুষ কষ্টে আছে। উদাহরণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে সমালোচনার জবাবে নসরুল বলেন, “রেন্টাল পাওয়ার বলতে কিছু নেই। আমাদের স্বল্প মেয়াদী, মধ্যম মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। স্বল্প মেয়াদের পরিকল্পনায় ছিল ইমিডিয়েট, কয়েক মাসের মধ্যে কীভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যায়। সেজন্য আমরা ভাড়া করে নিয়ে আসছিলাম। ইংরেজিতে সেটাকে বলে রেন্টাল পাওয়ার। একটাও পাওয়ার প্লান্ট তো এখন রেন্টাল না। আমরা যতগুলোকে এক্সেটেনশন দিয়েছি, স্ট্যান্ডবাই রেখেছি। একটারও কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ নেই।
“ক্যাপাসিটি চার্জের কথা বললেন? সারা বিশ্বে তো আপনি কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে পারবেন না যদি ক্যাপাসিটি চার্জ না দেন। একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট ১০/২০ বছরের জন্য নেবেন, তার প্রতিদিনে যে অর্থ খরচ হবে, তা দেবেন না? আপনি বলবেন, আমি যখন ইচ্ছে তখন চালাব। পৃথিবীর কেউ আপনার কাছে ইনভেস্টমেন্ট করবে? দুই বছরের জন্য ঘর ভাড়া নিয়ে মালিককে যদি বলেন, যখন থাকবেন ভাড়া দেবেন, আর না থাকলে ভাড়া দেবেন না। কেউ কি ভাড়া দেবে? এটা হাস্যকর কথা। অর্থনীতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই আপনাদের নেই। ওই স্যোশাল মিডিয়ায় দেখেন- রেন্টাল, রেন্টাল, রেন্টাল। ক্যাপাসিটি চার্জ, ক্যাপাসিটি চার্জ। বোঝারও চেষ্টা করেন না আমাদের বিরোধী দলের বন্ধুরা।”
এই আলোচনায় সরকারি দল আওয়ামী লীগের ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, “বিশ্বের সকল দেশে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরে নয়। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। সরকার চেষ্টা করছে সমাধানের জন্য।”
আওয়ামী লীগের আহসানুল হক টিটু বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দেশে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক কম। রিজার্ভে চাপ পড়েছে, কিন্তু প্রতিবেশীর তুলনায় অনেক কম। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ক্রাইসিসে। সেখানে বাংলাদেশ দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে ভালো অবস্থানে।”
আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বিশ্বের উদাহরণ টেনে বলেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বহু দেশে মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ। জার্মানির ৫০ বছরে সর্বোচ্চ। যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। করোনার লকডাউন স্থবির ছিল অর্থনীতি।”
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, “ইউরোপে এখন ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি। জার্মানির মতো দেশে হাহাকার চলছে। কোনো কোনো দেশে মুদ্রাস্ফীতি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক মজবুত।”
