জামায়াতকে ‘ভালো ভালো’ কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাংবাদিকরা: পরওয়ার
ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নানা সমস্যার বিষয় বিরোধী দলীয় নেতার কাছে তুলে ধরেছেন টেলিভিশনগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা।
সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে সাংবাদিকরা ‘ভালো ভালো’ রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, বলছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বুধবার বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির নেতারা।
বৈঠকের পর গোলাম পরওয়ার আলোচনার নানা বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে বলেন, ‘গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা বলেছেন, বর্তমান সংসদে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত যে ভূমিকা রাখছে, তা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক।
“জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন, সংসদের ভিতরে এবং বাইরে দেশের ও জনগণের স্বার্থে সকল ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।”
গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে জামায়াত অবস্থান নেবে এবং সেটি হবে- অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল। জামায়াত রাজপথের সকল আন্দোলনই অহিংস করতে চায়। সাংবাদিকরাও তাদের ‘ভালো ভালো’ রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিদ্যমান নানা সমস্যার বিষয়ে শীর্ষ নির্বাহীরা কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব সুবিধা রয়েছে, সেসব সুবিধা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নেই। বেতন কাঠামো নাই, ওয়েজ বোর্ড নাই, সেখানে কোনো কাঠামোগত অবস্থান নাই। তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নও তারা তুলে ধরেছেন।”
গোলাম পরওয়ারের তথ্য অনুযায়ী সভায় জামায়াতের আমির ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের বলেছেন, “২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হবে।”
তিনি এ ক্ষেত্রে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে জামায়াতের প্রকাশ্য ও আন্তরিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
বিকালে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ওই বৈঠকের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ আবদুল হাই সিদ্দিক, সময় টিভির সিইও জোবায়ের আহমেদ বাবু, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ মনিউর রহমান, এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ শহিদুল আজম, চ্যানেল আই এর প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফখরুল আলম খান কাঞ্চন, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস খান, এখন টিভির হেড অব নিউজ মোস্তফা কামাল স্বপন, স্টার নিউজের হেড অব নিউজ ওয়ালিউর রহমান মেরাজ।
আরও ছিলেন- একাত্তর টেলিভিশনের সিইও এবং হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ মামুন আব্দুল্লাহ, ডিবিসি নিউজের সিএনই সাহাবুদ্দীন চৌধুরী, নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খান, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক ও হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, এসএ টিভির নিউজ ইনচার্জ ওয়াহিদ মিল্টন, বৈশাখী টিভির হেড অব নিউজ জিয়াউল কবির সুমন, দীপ্ত টিভির হেড অব নিউজ এস এম আকাশ, মোহনা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক সুমন মোস্তাফিজ, জিটিভির হেড অব নিউজ গাউসুল আজম বিপু, নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন নবিন, এশিয়ান টিভির সিইও হাসনাইন খুরশেদ, মাই টিভির এডিটর ইন চিফ মাহমুদ আল ফয়সাল, বাংলা টিভির পরিচালক বার্তা মীর নূর উস শামস শান্তনু, চ্যানেল এসের এমডি ও সিইও সুজিত চক্রবর্তী, গ্রিন টিভির হেড অব নিউজ মাহমুদ হাসান, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রধান কামরুজ্জামান বাবলু।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
ওই বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, নিউ নেশনের আকরাম হোসেন, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভার পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো ‘দূরত্ব’ রয়েছে বলে মনে করে না জামায়াত।
