০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাদির অবস্থা এখনো ‘আশঙ্কাজনক’: মেডিকেল বোর্ড

“তার কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে,” বলা হয় মেডিকেল বোর্ডের বার্তায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2025, 06:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:18 PM

গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির অবস্থা এখনো ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

শনিবার বিকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ অ্যান্ড এইচডিইউর সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবালের পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, সেখানে হাদির চিকিৎসায় বিভিন্ন বিভাগের ১৩ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

হাদির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বলা হয়েছে, তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“যেহেতু অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেহেতু এখন কনজারভেটিভভাবে ম্যানেজ করতে হবে। ব্রেইন প্রটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে অন্যান্য সব সাপোর্ট চালিয়ে যেতে হবে। যদি অবস্থা একটু স্থিতিশীল হয়, তাহলে মস্তিষ্কে আবার সিটি স্ক্যান করানো যেতে পারে।”

‘ব্রেইন স্টেমে’ আঘাতের কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ওঠানামা করছে জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, “রক্তচাপের জন্য সাপোর্ট যেভাবে দেওয়া আছে, সেটা সেভাবেই চলবে। যদি হৃদস্পন্দন কমে যায়, তাহলে সাময়িকভাবে পেস মেকার লাগানোর একটি দল প্রস্তুত আছে, সেটা লাগানো হবে।”

হাদির ফুসফুসে আঘাত আছে ও ‘চেস্ট ড্রেইন টিউবে’ অল্প রক্ত আসছে বলেও মেডিকেল বোর্ডর বার্তায় বলা হয়।

‘ফুসফুসে সংক্রমণ’ ও ‘এআরডিএস’ যেন ডেভলপ না করে, সেদিকে খেয়াল রেখে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, “তার কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে, সেটাকে ধরে রাখার জন্য ‘ফ্লুইড ব্যালেন্স’ যেভাবে ঠিক রাখা হচ্ছে, সেভাবেই চালিয়ে যেতে হবে।”

হাদির শরীরে রক্ত জমাট বাধা ও রক্ত ক্ষরন হওয়ার মধ্যে যে ‘অসামঞ্জস্যতা’ দেখা দিয়েছিলো (ডিআইসি) সেটা অনেকটাই ঠিক হয়ে আসছে জানিয়ে বোর্ড বলছে, “এটাকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ট্রানফিউস করতে হবে।”

এর বাইরে তার চিকিৎসা শুরু করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকলে ‘হিরোইক’ কাজ করেছেন জানিয়ে তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়েছে এই বোর্ড।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়।

চলন্ত অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে তার মাথায়।  

হাদিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসকদলের ধারণা, গুলিটি হাদির মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি। সেজন্য প্রতি শুক্রবার তিনি জনসংযোগ করতেন।

গেল শুক্রবার দুপুরে মতিঝিলের একটি মসজিদে প্রচার শেষে সতীর্থদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের জন্য ব্যাটারি রিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। যাওয়ার পথে বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

হাদির উপর সন্দেহভাজন এক হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে তার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলেছে, ‘পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে’; ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে বা তার সন্ধান পেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। 

এছাড়া হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।