মাগুরা থেকে নারায়নগঞ্জ : এরা দেখেও শেখে না, ঠকেও শেখে না
গতকাল ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ করে দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সারা দেশ যখন অপেক্ষা করে আছে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন শেষ মুহূর্তে জানা গেল, এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হচ্ছে না। এবার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি না সেটি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার জন্ম হলো।
প্রত্যেক নির্বাচনের আগে আগে সেনা বাহিনী চাওয়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভালো কিছু নয়। সেনা বাহিনী ছাড়াও যে বেসামরিক প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদেরকে আস্থাবান হতে হবে। গণতন্ত্রের কথা যদি শুধু মুখে না বলে মনে বিশ্বাস করি, তাহলে দেশের বেসামরিক প্রশাসনকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শক্তিশালী করতে হবে এবং আস্থায় নিতে হবে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
কিন্তু নারায়নগঞ্জের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের যেসব অঞ্চলে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বেশি হয় বলে প্রচার রয়েছে, নারায়নগঞ্জ তার মধ্যে একটি। এর বাইরে এই নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। খোদ সরকারী দলের দুইজন প্রার্থী এই নির্বাচনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি এই নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের উপর অনাস্থার কথা বললেও, তারাও এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। সুতরাং সাধারণ নির্বাচনী উত্তেজনার পাশাপাশি অনেক ধরনের শঙ্কাও রয়েছে এই নির্বাচনকে ঘিরে। খোদ সরকারী দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান যখন নারায়নগঞ্জে জঙ্গী হামলার আশঙ্কা করে থানায় জিডি করেছেন, তখন সেই শঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্য দুই আলোচিত প্রার্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি এবং তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচনে শামীম ওসমানের সমর্থকদের দ্বারা সন্ত্রাস হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ্যে বারবার বলে আসছেন।
তাই সব মিলিয়ে ভোটারদের মনে আস্থা তৈরির জন্য এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। নির্বাচন কমিশনও আশ্বস্ত করেছিল যে এই নির্বাচনের আগে আগে নারায়নগঞ্জে সেনা মোতায়েন করা হবে। কিন্তু ২৮ অক্টোবর সারাদিন অপেক্ষার পর নির্বাচন কমিশন জানাল যে 'ধরে নিতে হবে' এই নির্বাচনে সেনা বাহিনী আসছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদেরকে জানালেন, বেশ আগেই সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে নির্বাচন কমিশনের এই অনুরোধ সরকার পালন করবে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আমাদের মতো সাধারণ জনগনের সঙ্গে একই সময় নির্বাচন কমিশনারও বুঝতে পারলেন যে নির্বাচনে সম্ভবত সেনা নিয়োগ হচ্ছে না।
নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেকোনো সংবেদনশীল মানুষকে ক্ষুব্ধ করার জন্য যথেষ্ট। আমি নিজে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনকে উৎসাহিত করতে আগ্রহী নই। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশ রক্ষা করা, নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিশেষ বিশেষ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের যে সহজ কোনো বিকল্প নেই, সেটাও সত্যি কথা।
তবে সবচাইতে হতাশার ব্যাপার হচ্ছে, সেনা মোতায়েন হোক কিংবা না হোক, এ ব্যাপারে সরকারের নিরবতা ও শেষ মুহূর্তের চমক। সেনাবাহিনী সরকারের অধীন একটি সংস্থা, তারা কোথায় যাবেন না যাবেন, তা সরকারের বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়।
নারায়নগঞ্জে সেনা মোতায়েন না করতে পারলে না-ই করলেন, কিন্তু এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আগেভাগে অবগত করার ভদ্রতাটুকু আমাদের সংশ্লিষ্ট মহল করতে পারেন নি। সাদা চোখে এর মানে হচ্ছে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে রাজি নয়। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছেন, নির্বাচন কমিশন মানে শুধু আগারগাওয়ের ঐ সরকারী ভবনে বসে থাকা ৩ জন নির্বাচন কমিশনার আর গোটা কয়েক সরকারী কর্মচারী নন। নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠির উত্তর দেওয়ার ভদ্রতা রক্ষা করতে না পারা, কমিশনকে তাদের চাহিদা মতো সমর্থণ না দেওয়া সরকারের সদিচ্ছার অভাব হিসেবে গোটা দেশের মানুষের কাছে ধরা পড়বে।
এর ফলে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদি অনেক প্রতিক্রিয়া হবে।
প্রথমেই যার সবচাইতে বড় ক্ষতি হলো, তিনি হচ্ছেন সরকারী দল সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান। আশাকরি আগামীকালের নির্বাচনে বড় কোনো অঘটন ঘটবে না। যদি কোনো অঘটন না ঘটে এবং সেই নির্বাচনে শামীম ওসমান বিজয়ী হন, তাহলেও তার বিরোধী পক্ষ অভিযোগ আনতে পারবেন যে শামীম ওসমানের লোকেরা নির্বাচনের আগে আগে ভয়ভীতি ছড়িয়ে অন্য প্রার্থীদের ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আসা থেকে বিরত রেখেছিলেন। এভাবে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। আর যদি অন্য প্রার্থীদের কেউ বিজয়ী হন, তাহলেও তারা বড় গলায় বলবেন যে সরকার অনেক ষড়যন্ত্র করেও তাদের বিজয়কে ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি। সরকারী দলের সদস্যরা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি না দেখালে তারা আরো বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারতেন। সুতরাং ফলাফল যা-ই হোক না কেন, এই নির্বাচন সরকারের জন্য ভালো কিছু আনছে না।
এবার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো নিয়ে একটু চিন্তা করি। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যত স্বল্প মেয়াদেই হোক না কেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সঙ্গে অনির্বাচিত সরকার খাপ খায় না। এর চাইতে নির্বাচিত সরকারের উপরই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বেশি আস্থা রাখতে হবে। দোহাই দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের। যদিও আদালত তার পর্যবেক্ষনে বলেছিলেন, বাস্তবতার নিরিখে আরো দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কিন্তু সরকারীদল এসব বিবেচনা করেনি, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিলোপ করে দিয়েছে।
সরকারী দলের অধীনেও যে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, সেটি প্রমান করার দায় তাই সরকারী দলের কাধেই চেপেছে। সেই চেষ্টাটা গত কয়েকটি নির্বাচনে তারা করতে চেষ্টা করেছেন বটে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, পৌর নির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
কিন্তু এই নির্বাচনগুলো সরকারী দলের জন্য কোনো সুখবর বয়ে আনে নি। যে বিএনপিকে মনে করা হচ্ছিল ১/১১ এর ঝড়ে বিপর্যস্ত, তারা পৌর নির্বাচনে সরকারীদলের প্রার্থীদের তুলনায় অনেক ভালো করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘদিনের মেয়র এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় একলক্ষ ভোটের বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত তুলনামূলক কম পরিচিত প্রার্থী এম.মনজুর আলম। অনেকেই মনে করেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকারী দল ভয় পেয়েছে এবং এ কারণেই তারা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রেখে এখন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকেই দুই টুকরো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই যে সাধারণের মাঝে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, সেটি কিন্তু সরকারী দলের জন্য এক ধরনের নৈতিক ক্ষতি। এর চাইতে সরাসরি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ভোটে পরাজিত হওয়া অনেক বেশি সম্মানের।
নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেষ সময়ে কোনো ঘোষনা না দিয়েই সেনা মোতায়েন করতে সরকারের অপারগতা সরকারের গত কয়েকটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে ম্লান করে দিবে। বিরোধী দল এখন জোর গলায় বলতে পারবে যে, সরকার চাইলেই যে কোনো নির্বাচনে তার নিজের ইচ্ছে মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সুতরাং জাতীয় নির্বাচন কোনো দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া সম্ভব নয়। এতদিন যারা বলতে চেষ্টা করেছেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীনেও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এদেশে সম্ভব, তারা এখন গলায় জোর পাবেন না। জাতীয় নির্বাচনে যদি এরকম শেষ সময়ে সরকার সেনা নিয়োগ কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে এভাবে নীরবে সরে আসে, তাহলে সারা দেশে যে অস্থিরতা আর হানাহানি শুরু হবে, সেটি ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।
তাই নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করে সরকার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরো বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন তাদের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা যাবে কীভাবে?
আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বড় দলগুলোতে অভিজ্ঞ এবং মেধাবী রাজনীতিবিদদের আকাল নেই। তারা অনেক দূরের জিনিস দেখতে পাওয়ার কথা। কিন্তু আমি অবাক হই, তারা কেন ক্ষমতায় যাওয়া মাত্রই এরকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন? ভবিষ্যত দেখা তো দূরের কথা, তারা অতীতকেও ভুলে বসে থাকেন।
আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে সব কিছু প্রথম দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু বিএনপি প্রথম গোল বাধালো মাগুরার উপনির্বাচনকে ঘিরে। সেই নির্বাচন বড় আকারে প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কোনো দরকার ছিল? ছিল না। সেই নির্বাচন এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ছিল না যে বিএনপিকে সেখানে জিততেই হবে। একটি আসন কম বেশি হওয়ায় সরকার বদলের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। তবু অত্যুৎসাহীরা সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন। এর জন্য বিএনপিকে ভুগতে হয়েছে এবং আজো ভুগতে হচ্ছে। মাগুরার সেই প্রার্থী কোথায় হারিয়ে গেছেন রাজনীতির অঙ্গন থেকে, কিন্তু মাগুরা উপ নির্বাচনের কলংক এখনও বিএনপি বয়ে বেড়াচ্ছে। মাগুরার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে নৈতিক ভিত্তির উপর দাড় করাতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তারা জনমনে ধারণা দিতে সক্ষম হয় যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল এবং জনগনের ভোটের অধিকার রক্ষায় তারা সংগ্রাম করছে। বিএনপি যদি সেই সময় প্রথমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে মেনে নিত, তাহলে তারা অবাধ নির্বাচনের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে প্রমান করতে পারত। কিন্তু মাগুরার তারা সেই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করল না। মাগুরার উপনির্বাচন থেকে তারা কিছুই শিখল না, এর ফলে করতে হলো ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত ঠিকই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করল বিএনপি, কিন্তু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি তাদের যে সত্যিই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আছে, সেটা প্রমান করতে ব্যর্থ হলো জনগনের কাছে। আর গত মেয়াদে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে মোসাদ্দেক আলী ফালু যেভাবে নির্বাচিত হলেন, সেটা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে ঠেকালো।
বিএনপির এই বিপর্যয় থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। এই সরকারের সময় ভোলায় যে উপনির্বাচন হয়েছে, সেটিকে মাগুরা উপনির্বাচন থেকে ভালো ভাবার কোনো কারণ নেই। ভোলা উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হয়নি। সেই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ কম ওঠেনি।
তবে মানুষ ভোলার কথা ভুলে যেতে শুরু করছিল গত কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারী দলের ভূমিকা দেখে। পৌর নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, সেখানেও মানুষের মনে তাই নিরাপত্তা বোধটুকু বেশি ছিল। যদিও ফলাফল ঘোষনার সময় রাতের বেলা সেখানে বড় আকারের উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল, গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে সরকার নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দিতেই ফল ঘোষনার বিরতি দিয়েছে, তবু সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই মেনে নিয়েছিল সবাই।
কিন্তু এর পরেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অনুৎসাহ তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠনে তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্ঠি হয়েছে। আর নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা নিয়োগ নিয়ে এই লুকোচুরি তাদের প্রতি আস্থার সংকটকে আরো তীব্র করে তুলেছে। আগামী কালের নির্বাচনে যদি কোনো অঘটন ঘটে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে সরকারী দলকে এর জন্য ভালোই মাশুল দিতে হবে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, বিএনপির এই দাবিটি তখন আরো বেশি করে জনভিত্তি পাবে।
এত বড় ঝুঁকি নেওয়াটা তাই সরকারের উচিত হয়নি। যদি নারায়নগঞ্জে সেনা বাহিনী মোতায়েনে সরকারের কোনো অসুবিধা বা যৌক্তিক অসম্মতি থেকে থাকে, তাহলে উচিত ছিল সেটি আগে থাকতেই স্পষ্ট করা। এখন শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য আত্মঘাতী হয়েছে, যার জন্য তাদেরকে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে ভুগতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি অসহযোগিতা করা থেকে সরকার ভালো কিছু অর্জন করতে পারবে না।
দুঃখটা এখানেই। আমরা এতদিনেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার বদলের হাঙ্গামাহীন কোনো পদ্ধতিকে স্থায়ী করতে পারলাম না। প্রতিবারই সরকারে থাকা দল অত্যুৎসাহে নির্বাচন পদ্ধতিকে বিতর্কিত করতে এগিয়ে আসেন। এরা জনগনকে বোকা ভাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেরাই নিজেদের অতি চালাকিতে ফেসে যান। হায়, এরা দেখেও শেখে না, ঠকেও শেখে না।
আরিফ জেবতিক: সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক।
