ব্যাটিংয়ের সময় ‘মাথায় অঙ্ক কষছিলেন’ রাজা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দুই ওভারে ম্যাচে ভাগ্য গড়ে দেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
ক্রিজে গিয়ে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেন সিকান্দার রাজা। সমীকরণ যখন কঠিন হয়ে এলো, ঝড় তুললেন তিনি। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দুই ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রাজা বললেন, ব্যাটিংয়ের সময়টায় মাথায় হিসাব মেলাচ্ছিলেন তিনি।
রাজার নেতৃত্বে এবারের বিশ্বকাপটা দুর্দান্ত কাটছে জিম্বাবুয়ের। আসরে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। কলম্বোতে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আফ্রিকার দলটি।
রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে লঙ্কানদের হারানোর পথে বড় ভূমিকা রাখেন রাজা। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তিনি যখন ক্রিজে যান তখনও ৫০ বলে ৮১ রান লাগে জিম্বাবুয়ের।
মুখোমুখি প্রথম বলে ডাবল নিয়ে রানের খাতা খোলেন রাজা। পরের ৯ বলে করতে পারেন কেবল পাঁচ রান। শেষ ছয় ওভারে যখন ৬৫ রান চাই জিম্বাবুয়ের, জ্বলে ওঠেন তিনি। পঞ্চদশ ওভারে লেগ স্পিনার দুশান হেমান্থাকে টানা দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন রাজা।
পরের ওভারে আরেক স্পিনার মাহিশ থিকশানাকে পরপর দুই বলে মারেন ছক্কা ও চার। পেসার দিলশান মাদুশাঙ্কাকেও একটি ছক্কায় ওড়ান রাজা। তার তাণ্ডবে শেষ তিন ওভারে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন পড়ে ১৯ রানের।
দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এক্সট্রা কাভারে দাসুন শানাকার হাতে ধরা পড়েন রাজা। চারটি ছক্কা ও দুটি চারে ২৬ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। এর আগে বোলিংয়ে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন এই অলরাউন্ডার।
শেষ পর্যন্ত তিন বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ব্যাট হাতে দারুণ ওই ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন রাজা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এনিয়ে ২০ বার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন তিনি। তার চেয়ে এই সংস্করণে বেশিবার ম্যাচ সেরা হয়েছেন কেবল একজন-মালয়েশিয়ার ভিরানদিপ সিং (২২)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এনিয়ে চতুর্থবার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন রাজা। শেষবার এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি ২০২২ আসরে।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে এসে রাজা বলেন, শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে পরে হিসাব কষে ব্যাটিং করেছিলেন তিনি।
“প্রথম আট বল খেলার পর নিজেকে বললাম, চার-পাঁচ রান করেছি, বল ঠিকঠাক দেখছি আর টাইমিংও ভালো হচ্ছে। তাই ওই মুহূর্ত থেকে নিজের ওপর আস্থা রাখলাম-জোনে একটা বল পেলেই মেরে দেব এবং আশা করি সেটা সীমানা ছাড়াবে। ভাবনাটা এমন ছিল।”
“একটি ডেলিভারি ঠিকমতো ব্যাটে-বলে করতে পারলেই এরপর ব্যাপারটা ছিল স্রেফ চালিয়ে যাওয়া। মাথায় সমীকরণ মেলাচ্ছিলাম, বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করিনি। একটি ওভারে ২০ রান প্রয়োজন ছিল এবং আমরা সেটা পেয়েছি।”
সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের প্রথম প্রতিপক্ষ দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়াংখেড়েতে আগামী সোমবার মুখোমুখি হবে দুই দল।
