২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

৪০০ ছাড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড

বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটিতে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস।

৪০০ ছাড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড

৮ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। 

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Oct 2022, 06:13 PM

Updated : 10 Oct 2022, 02:09 AM

রোমাঞ্চের অনেক উপকরণ নিয়ে আড়াই বছরের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরল পার্থ স্টেডিয়ামে। রানের উৎসব হলো। বিস্ফোরক দুটি ইনিংসে দলকে বড় পুঁজি এনে দিলেন জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস। ডেভিড ওয়ার্নার জবাব দিলেন দুর্দান্ত ইনিংস খেলে। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য বদল হলো অসংখ্যবার। শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য পেরে উঠল না অস্ট্রেলিয়া। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় ৮ রানে। ২০৮ রানের পুঁজি গড়ে স্বাগতিকদের ২০০ রানে আটকে দেয় তারা।

শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৬ রান। প্রথম বলে বাউন্ডারির পরও তারা নিতে পারে স্রেফ ৭ রান, সঙ্গে হারায় দুটি উইকেট।

চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে ৩২ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বাটলার। ৫১ বলে ৮৪ রান করে ম্যাচের সেরা হেলস।

দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে ১৩২ রান আসে স্রেফ ৬৮ বলে।

অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলিং আক্রমণ অবশ্য ছিল না এই ম্যাচে। স্টার্ক-কামিন্স-হেইজেলউড-জ্যাম্পা, সবাই ছিলেন বিশ্রামে। ছিলেন না গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।

বাটলারকে ওপেনিংয়ে জায়গা দিতে বাদ পড়েন ফিল সল্ট। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ড। ক্যামেরন গ্রিনের করা প্রথম ওভারে টানা তিনটিসহ চারটি চার মারেন বাটলার। ড্যানিয়েল স্যামসকে ছক্কায় ওড়ান হেলস। কেন রিচার্ডসনকে পরপর চার-ছক্কায় এগিয়ে যান বাটলার।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ইংলিশ অধিনায়ককে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল। শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ নিতে পারেননি মিচেল মার্শ, তখন ৩০ রানে খেলছিলেন বাটলার।

প্রথম ৬ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল বিনা উইকেটে ৫৮। এরপরই আক্রমণে আসা লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসনকে টানা দুই ছক্কায় স্বাগত জানান বাটলার। মার্কাস স্টয়নিসের টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন হেলস।

গ্রিনকে বাউন্ডারিতে বাটলার ফিফটি পূর্ণ করেন স্রেফ ২৫ বলে। হেলসের পঞ্চাশে যেতে লাগে ২৯ বল। জুটির শতরান স্পর্শ করে ৫৩ বলেই।

বাটলারকে থামিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন এলিস। মিড অফে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় বাটলারের ৪ ছক্কা ও ৮ চারে গড়া ৬৮ রানের ইনিংস।

গত বছরের মার্চের পর ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা স্টোকসকে সুযোগ দেওয়া হয় তিন নম্বরে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ১ রানে জীবন পেয়েও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৯ বলে ৯ রান করে।

সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে পরের ওভারে আউট হয়ে যান হেলসও। কেন রিচার্ডসনের স্লোয়ারে লং অফে ক্যাচ দেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ৮৪ রানের ইনিংসটি।

হ্যারি ব্রুক, মইন আলি, স্যাম কারানরা এরপর শেষের দাবি মেটাতে পারেননি। শেষ ওভারে ক্রিস ওকসের চার-ছক্কায় দুইশ ছাড়ায় ইংল্যান্ডের সংগ্রহ।

তাদের ২০৮ রান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো দলের সর্বোচ্চ।

অস্ট্রেলিয়ার অন্য বোলাররা বেশ খরুচে বোলিং করলেও ব্যতিক্রম ছিলেন এলিস। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ২৮ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই গ্রিনকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড উইকেট পায় রিভিউ নিয়ে।

আরেক ওপেনার ওয়ার্নার এগিয়ে যান দারুণ সব শট খেলে। মার্শের সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। নবম ওভারে আক্রমণে এসে ৪৪ বলে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন আদিল রশিদ। এই লেগ স্পিনারের প্রথম বলে ছক্কা মারেন ওয়ার্নার। তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে যান মার্শ (২৬ বলে ৩৬)।

অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ একটি ছক্কার পর বিদায় নেন রান আউটে। এ দিনের ১২ রানে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রান পূর্ণ হয়ে যায় তার।

তখনও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ছিল ভালোভাবেই, একাদশ ওভারে স্কোর ৩ উইকেটে ১০৫।

ওয়ার্নার ফিফটি পূর্ণ করেন ২৯ বলে। পাঁচ নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন স্টয়নিস। রশিদের একই ওভারে তিনি মারেন দুই ছক্কা। আরেকটি মারেন মার্ক উডকে।

ওই ওভারেই ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ১৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস। একই ওভারে শূন্য রানে ফেরেন টিম ডেভিডও।

শেষ ৫ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। মইনের করা ষোড়শ ওভারে ওয়ার্নারে দুই চারে আসে ১১ রান।

পরের ওভারে স্রেফ ৪ রান দিয়ে ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেন উড। এমনকি আউট হতে পারতেন ম্যাথু ওয়েডও। ডানহাতি পেসারের বাউন্সারে বল ব্যাটসম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে হেলমেটে লেগে ওখানেই উঠে যায় আকাশে। ক্যাচ নিতে এগিয়ে যান উড। কিন্তু ক্রিজে ফেরার মুহূর্তে বোলারকে এক হাত দিয়ে আটকে দেন ব্যাটসম্যান।

টিভিতে দেখে মনে হচ্ছিল, বাটলারকে আম্পায়ার জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউটের আবেদন করবেন কি-না, তবে বাটলার আবেদন করেননি।

৪৪ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে শেষের ঝড়ে অস্ট্রেলিয়াকে জেতানো ওয়েডকে ঘিরে এ দিনও বেঁচে ছিল আশা। কারানের করা অষ্টাদশ ওভারে তিনি মারেন একটি ছক্কা, ওভারে আসে ১৪ রান।

পরের ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৬ রান দিয়ে ড্যানিয়েল স্যামসের উইকেট নেন রিস টপলি। ম্যাচ আবার হেলে পড়ে ইংল্যান্ডের দিকে।

শেষ ওভারে ১৬ রানের সমীকরণে কারানের প্রথম বলে চার মারেন ওয়েড। পরের বলে আসেনি কোনো রান। তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ওয়েড (১৫ বলে ২১)।

অস্ট্রেলিয়ার আশাও প্রায় শেষ হয়ে যায় সেখানেই। শেষ তিন বলে ২ রান দিয়ে এলিসের উইকেটও নেন কারান।

৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার উড। টপলি ও কারানের প্রাপ্তি দুটি করে।

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটিই ইংল্যান্ডের শেষ সিরিজ। যার শুরুটা তাদের হলো দারুণ। আগামী বুধবার ক্যানবেরায় সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নামবে ইংলিশরা।     

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২০৮/৬ (বাটলার ৬৮, হেলস ৮৪, স্টোকস ৯, ব্রুক ১২, মইন ১০, কারান ২, মালান ২*, ওকস ১৩*; গ্রিন ৩-০-৩৮-০, রিচার্ডসন ৪-০-৩৯-১, স্যামস ৪-০-৪২-১, এলিস ৪-০-২০-৩, সোয়েপসন ২-০-৩১-০, স্টয়নিস ৩-০-৩৬-১)

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ২০০/৯ (ওয়ার্নার ৭৩, গ্রিন ১, মার্শ ৩৬, ফিঞ্চ ১২, স্টয়নিস ৩৫, ডেভিড ০, ওয়েড ২১, স্যামস ৬, এলিস ০, রিচার্ডসন ০*, সোয়েপসন ২*; ওকস ২-০-২১-০, টপলি ৪-০-৩৬-২, উড ৪-০-৩৪-৩, কারান ৪-০-৩৫-২, রশিদ ৩-০-৪১-১, স্টোকস ২-০-১৮-০, মইন ১-০-১১-০)

ফল: ইংল্যান্ড ৮ রানে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথমটির পর ১-০তে এগিয়ে ইংল্যান্ড

ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যালেক্স হেলস