‘সময় হয়েছে গিলকে বিরতি দেওয়ার’
ইয়াসাসভি জয়সওয়াল, সাঞ্জু স্যামসনের মতো ব্যাটসম্যানদের বাইরে রেখে টি-টোয়েন্টিতে শুবমান গিলকে টানা সুযোগ দেওয়ার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য দেখছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ কাইফ।
ঢাক-গুড়গুড় চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এখন প্রশ্নগুলি উচ্চকিত হতে শুরু করেছে। শুবমান গিল কেন টি-টোয়েন্টিতে এত বেশি সুযোগ পাচ্ছেন, ভারতীয় ক্রিকেট সেই প্রশ্ন জোরালভাবেই উঠছে। মোহাম্মাদ কাইফ তো বেশ আগে থেকেই সোচ্চার এই আলোচনায়। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান এখানে পরিষ্কার দ্বৈত নীতি দেখতে পাচ্ছেন। তার মতে, সময় হয়েছে এখন গিলকে বিরতি দিয়ে সাঞ্জু স্যামসন বা অন্যদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার।
মাস তিনেক আগে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ভারতীয় দলে গিলকে ফেরানোর সময় থেকেই প্রসঙ্গটি ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচিত। গিলকে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তখন থেকেই। ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক তিনি। তার টি-টোয়েন্টি রেকর্ড এমনিতে খারাপ নয়। আইপিএলেও তিনি দারুণ সফল। তবে ভারতীয় দলের বাস্তবতায় তার চেয়ে ভালো বিকল্পও আছে।
গিল আসার আগে স্যামসন টপ অর্ডারে খেলছিলেন এবং বেশ ভালো করছিলেন। গত বছর তো এক পর্যায়ে পাঁচ ইনিংসের মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি করে তিনি রেকর্ড গড়েন। এই বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটিতে তিনি ভালো করতে পারেননি। এরপর এশিয়া কাপের আগে গিলকে ফেরানো হয় ওপেনিংয়ে। স্যামসনকে তখন নামিয়ে দেওয়া হয় তিনে, এরপর পাঁচে। পরে একাদশের বাইরেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অথচ স্যামসনের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য পরীক্ষিত। পাশাপাশি তিনি কিপিংও করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা আছে, কোহলি-রোহিতউত্তর যুগে গিলকে ভারতীয় ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ করে তোলার জন্যই তাকে টি-টোয়েন্টিতে ফেরানো হয়েছে। কিন্তু তার ব্যাট সেই দাবি পূরণ করতে পারছে না। ফেরার পর ১৪ ইনিংসে কোনো ফিফটি তিনি করতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিনি আউট হয়েছেন ৪ রানে, পরেরটিতে পেয়েছেন ‘গোল্ডেন ডাক।’
কাইফ তার ইউটিউব চ্যানেলে বললেন, গিলের ওপর অনেক বেশিই ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিজেকে প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টায় তিনি বারবার আউট হচ্ছেন।
“আগেও বলেছি, শুবমান গিলের ওপর অনেক বেশিই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেস্ট অধিনায়কত্ব, ওয়ানডে নেতৃত্ব, টি-টোয়েন্টির সহ-অধিনায়কত্ব… কোনো ক্রিকেটারই এক সঙ্গে এত ভার বইতে পারবে না। স্রেফ সম্ভব নয় এটা। দায়িত্ব দেওয়া উচিত পর্যায়ক্রমে।”
“দেখুন সে কীভাবে বারবার আউট হচ্ছে, স্লিপে ধরা পড়ছে, ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করছে…। আভিশেক শার্মার মতো আগ্রাসী হতে গিয়ে সে আউট হচ্ছে। অনেক কিছু চেষ্টা করছে সে। আমার মনে হয়, সময় হয়েছে তাকে বিরতি দিয়ে সেই ক্রিকেটারদের নিয়ে চেষ্টা করা, যারা প্রমাণিত। সাঞ্জু স্যামসন তো শীর্ষ মানের ক্রিকেটার, কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি।”
কাইফ তুলে ধরলেন ইয়াসাসভি জয়সওয়ালের কথাও। ভারতের হয়ে ২৩ টি-টোয়েন্টি খেলে এই ওপেনারের রেকর্ড দুর্দান্ত। একটি সেঞ্চুরি, ৫টি ফিফটি করেছেন। ব্যাটিং গড় ৩৬.১৫, স্ট্রাইক রেট ১৬৪.৩১। আইপিএল পারফরম্যান্সও তার দারুণ। গত আসরে ৫৫৯ রান করেছেন ১৫৯ স্ট্রাইক রেটে। অথচ গত দেড় বছরে তাকে টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সহ-অধিনায়ক বলেই গিলকে বাইরে রাখা যাবে না, এমন ভাবনার সঙ্গে একমত নন কাইফ।
“কোনো দ্বৈত নীতি থাকা উচিত নয়। সহ-অধিনায়কদের তো আগেও বাদ দেওয়া হয়েছে। দলের স্বার্থেই গিলকে বিশ্রাম দিয়ে অন্য কাউকে আনা উচিত। এখানে দোষের কিছু নেই। সময় হয়েছে পরিবর্তনের। জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, স্যামসনকে বাইরে বসিয়ে রাখা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ না দিয়ে। অথচ ওপেনিংয়ে স্যামসন প্রচুর রান করেছে। পাঁচ ইনিংসের মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি করেছে, টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে কেউ তা করতে পারেনি।”
“কিছু ক্রিকেটার খুব কম সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদেরকে আবার বাড়তি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কারণ আপনি তাকে দলে রাখতে চান। এটা তো পরিষ্কারভাবেই দৃশ্যমান। তবে এখন চাপ এতটাই বেড়ে গেছে যে, আমার মনে হয় পরিবর্তনের সময় হয়েছে।”
