২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটিং পরামর্শক এখন বিসিসিআই প্রধান

দিল্লির সাবেক অধিনায়ক এই অধিনায়ক একসময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন আবাহনী ও মোহামেডানের হয়ে।

বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটিং পরামর্শক এখন বিসিসিআই প্রধান
বিসিসিআইয়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পাওয়াদের সঙ্গে ফটোসেশনে নতুন সভাপতি মিঠুন মানহাস (মাঝে, সাদা পোশাক)। ছবি: বিসিসিআই।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2025, 06:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

ভারতের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা- বিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাবেক ক্রিকেটার মিঠুন মানহাস। এক সময় তিনি খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। পরে কাজ করেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে। 

বিসিসিআইয়ের ৯৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বোর্ডের ৩৭তম সভাপতি হন ৪৫ বছর বয়সী মানহাস (পাঁচবার অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগপ্রাপ্তরা সামলেছেন কাজ)। 

তার সভাপতি হওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বেশ কয়েকদিন আগেই। বোর্ড প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন তিনি একাই। গত অগাস্টে ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার রজার বিনি সরে দাঁড়ানোর পর থেকে এই পদ খালি ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা।

সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাবেন শুক্লা। একইভাবে বোর্ড সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন দেভাজিৎ সাইকিয়া। 

সাবেক ক্রিকেটারদের আরেকজন এসেছেন বোর্ডে। কর্নাটকা ও ভারতের সাবেক স্পিনার রাঘুরাম ভাট কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। 

পরিবর্তন এসেছে পুরুষদের সিনিয়র জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে। শ্রীধারান শারাথ ও সুব্রত ব্যানার্জীর জায়গায় এসেছেন প্রজ্ঞান ওঝা ও রুদ্র প্রতাপ সিং। অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই কমিটিতে আছেন অজয় রাত্রা ও শিবসুন্দর দাসও। 

ব্যানার্জীর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিলাক নাইডুর জায়গায় চেয়ারপার্সন হিসেবে জুনিয়র নির্বাচক প্যানেলের যোগ দিয়েছেন শারাথ। এখানে আরও আছেন হারভিন্দের সোধি, রানাদেব বোস, পাথিক প্যাটেল ও কৃষ্ণা মোহন। 

সৌরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক জয়দেভ শাহকে যুক্ত করা হয়েছে বিসিসিআইয়ের অ্যাপেক্স কাউন্সিলে। তিনি এসেছেন মিজোরামের খাইরুল জামাল মজুমদারের জায়গায়। খাইরুল যোগ দিয়েছেন দুই সদস্যের আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলে, যেটার চেয়ারপার্সন অরুন ধুমাল। 

আগামী মাসে ৪৬ পূর্ণ করবেন মানহাস। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনার জন্য বিসিসিআইয়ের নিয়োগ করা উপ-কমিটিতে ছিলেন তিনি। 

খেলোয়াড়ি জীবনে মানহাস বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের কাছাকাছি এলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার তার। ১৯৯৭-৯৮ থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত ১৫৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, রান করেছেন ৯ হাজার ৭১৪ রান। ১৩০ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে করেছেন ৪ হাজার ১২৬ রান। টি-টোয়েন্টিতে ৯১ ম্যাচ খেলেছে করেছেন ১ হাজার ১৭০ রান।

২০১০-১১ মৌসুমে তিনি  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেন আবাহনী লিমিটেডের হয়ে, ২০১৬ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। 

একসময় তিনি হয়ে উঠেছিলেন দিল্লির ক্রিকেটের সমার্থক। ২০১৫ সালে দিল্লি ছেড়ে জম্মু ও কাশ্মীর দলে যোগ দেন মানহাস, পরের বছর যান অবসরে। 

এরপর থেকে কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন মানহাস। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন তিনি। আইপিএলে সেই সময়ের কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (বর্তমান পাঞ্জাব কিংস), রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট টাইটান্সের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।