০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাউন্সে নাকাল বাংলাদেশ ইমার্জিং শেষ ৮৯ রানেই

ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম কিছুটা লড়াইয়ে করেছেন ৪০ রান, বাকি সবাই মিলেও করতে পারেননি ৫০ রান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 09:10 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা মানেই বাউন্স সামলানোর চ্যালেঞ্জ। সফরে প্রথম ম্যাচেই সেই উত্তাপে গলে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। উইকেটে বাড়তি বাউন্স তো ছিলই, মাঝেমধ্যে দেখা গেল অসম বাউন্সও। এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যোগ হলো ব্যাটসম্যানদের বাজে শট নির্বাচনও। দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত বোলিং তো ছিলই। সব মিলিয়ে ভেয়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং। ইনিংস শেষ দলীয় সংগ্রহ তিন অঙ্কে পৌঁছানোর আগেই!

প্রিটোরিয়ায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৮৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের কাছে। 

বাংলাদেশের একাদশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটার ছিলেন চারজন। প্রোটিয়াদের ছিলেন একজন। তবে মাঠের ক্রিকেটে সেটির প্রতিফলন পড়েনি। 

বাংলাদেশের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম করেন ৪০ রান। দলের বাকি সবাই মিলে করেন ৩৮ রান। অতিরিক্ত থেকে আসে ১১। দুঅঙ্ক ছুঁতে পারেন আর কেবল আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১১) ও সামিউন বশির রাতুল (১০)।  

২৭ ওভার ক্রিজে কাটিয়ে ৭৩ রান করা মাহফিজুলও আসলে স্বস্তিতে খেলতে পারেননি খুব একটা। আগ্রাসী ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানকে রাখা হয়নি একাদশে। 

প্রোটিয়া পেসার ডায়ান খালিম ১৮ রানে শিকার করেন পাঁচ উইকেট। ২৯ বছর বয়সী পেসারের ৫০ বলের ৪০টিতেই কোনো রান নিতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। আন্দিলে মোখাকানের শিকার দুটি। 

খালিম ও বায়ান্ডা মাজোলা মিলে নতুন বলে নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন বাংলাদেশের টপ অর্ডারের। প্রথম চার ওভারে রান আসে তিন। এরপর খালিমের বলে দৃষ্টিকটূভঅবে আউট হন জাকির হাসান (৯ বলে ১)। অন সাইডে স্লগ করার চেষ্টা করেন বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের অধিনায়ক, ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় থার্ডম্যান ফিল্ডারের কাছে। 

মাহফিজুল ও শাহাদাত হোসেন অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ে পরের কয়েক ওভার কাটিয়ে দেন। দ্বাদশ ওভারের ইয়ানকো স্মিঠের বলে আলগা ড্রাইভে শাহাদাত (১৬ বলে ৮) ব্যাটের কানায় লেগে মিডল স্টাম্পে আঘাত করে বল। 

পরেও আর কোনো ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে পারেননি। মাজেলার বাড়তি বাউন্সে স্লিপে ইফতিখার হোসেন ইফতি (৮ বলে ২) ধরা পড়েন স্লিপে। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে হাঁসফাঁস করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আউট হন সবচেয়ে বাজে শটে। লেগ স্পিনার ক্যালেব সেলেকার বলে স্লগ করে উইকেট হারান তিনি। ২৮ বল খেলে তার রান ২!

পঞ্চম উইকেটে মাহফিজুল ও আমিনুল চেষ্টা করেন জুটি গড়তে। তবে সেই প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। যে পেসারকে টানা দুটি চার মেরেছিলেন আমিনুল, সেই মোখাকানের বলেই বোল্ড হয়ে যান তিনি। 

খালিম দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে বিদায় করেন মাহফিজুলকে। শর্ট বলে পুল করার চেষ্টায় ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ব্যাটসম্যান। তার হাতের কোনো এক জায়গায় ছোবল গিয়ে বল যায় কিপারের গ্লাভসে। ব্যাথায় কাতর হয়ে মাহফিজুল আম্পায়ারকে দেখাচ্ছিলেন, বল লেগেছে তার বাহুর ওপরের দিকে। তবে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন আগেই। 

মইন খান প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন বাড়তি বাউন্স সামলাতে না পেরে। এরপর কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন সামিউন। তবে সঙ্গী পাননি কাউকে। বড় শটের চেষ্টায় তিনি আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। 

ছোট্ট রান তাড়ায় শুরুর ওভারে জেপি কিংকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইকবাল হোসেন ইমনের ভেতরে ঢোকা বলে তিনি এলবিডব্লিউ হন তিনি। 

দ্বিতীয় উইকেটে ৩১ রানের জুটি গড়েন মদিরি লিথেকো ও ড্যানিয়েল স্মিথ। অষ্টম ওভারে স্মিথ ফিরলে ভাঙে এই জুটি। তাকে ফেরান চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান। 

এই জুটি ভাঙতে পারতো আরও আগেই। তৃতীয় ওভারে ইমনের বলে দুইবার স্মিথের ক্যাচ এনামুল হক। জীবন পেয়ে তার ব্যাটে আসে ২৩ বলে ২২ রান। তার বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি লিথেকো। দশম ওভারে তিনিও ফেরেন রিজওয়ানের বলে। ৪০ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন রিচার্ড সেলেটসওয়েন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৩০.২ ওভারে ৮৯ (মাহফিজুল ৪০, জাকির ১, শাহাদাত ৮, ইফতেখার ২, মাহিদুল ২, আমিনুল ১১, মঈন ০, সামিউন ১০, রিজওয়ান ৪, আনামুল ০, ইকবাল ০*; খালিম ৮.২-২-১৮-৫, মাজোলা ৮-১-২৮-১, স্মিট ৭-১-১৭-১, সেলেকা ৪-০-৭-১, মোখাকেন ৩-১-১৬-১)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল: ১৮.৪ ওভার ৯২/৩ (লিথেকো ১৪, কিং ০, স্মিথ ২২, সেলেটসওয়েন ৩৫*, ফন বুরেন ১৮*; ইকবাল ৬-১-২৫-১, এনামুল ৩-১-৮-০, রিজওয়ান ৪-১-২২-২, সামিউন ৩-০-১৯-০, আমিনুল ২-০-৯-০, জাকির ০.৪-০-৯-০)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।