২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাবা নাবির প্রথম বলে ছেলে হাসানের ছক্কা

বিরল ও স্মরণীয় দৃশ্যটির দেখা মিলেছে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে।

বাবা নাবির প্রথম বলে ছেলে হাসানের ছক্কা
বাবার বলে ছেলের ছক্কা। ছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2025, 08:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

লেংথ বল হাঁটু গেঁড়ে উড়িয়ে মারলেন হাসান ইসাখিল। মিডউইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা। একটু এগিয়ে এসে বোলারের দিকে তাকিয়ে হাসলেন হাসান। সেই বোলার আর কেউ নন, তার বাবা ও আফগান ক্রিকেটের গ্রেট মোহাম্মদ নাবি!

আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে বিরল ও স্মরণীয় মুহূর্তটি ধরা দেয় মঙ্গলবার।

কাবুলে নাবির দল মিস আইনাক নাইটসের বিপক্ষে আমো শার্কসের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন হাসান। দলটির স্কোর যখন ২ উইকেটে ৬৬, নবম ওভারে বোলিংয়ে আসেন ৩০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা নাবি। ৪০ বছর বয়সী অফ স্পিনারের প্রথম বলে ওই ছক্কা মারেন ১৮ বছর বয়সী হাসান।

শটটা দেখে অবাক হয়ে যান নাবি। ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে বলছিলেন, “এ কেমন আচরণ, তোমার বাবা তোমাকে বোলিং করছে, বাছা…(জবাবে হাসান যেন বলছিলেন) তুমি আমার বাবা, মাঠের বাইরে তোমার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা থাকতে পারে, কিন্তু তুমি যদি এমন বোলিং করো, তাহলে আমি বাইরে পাঠাবই।”

ওই ওভারে মোট ১২ রান দেন নাবি। ইনিংসে আর বোলিং করেননি তিনি। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হাসান। 

ম্যাচটি যদিও জিততে পারেনি হাসানের দল। তাদের করা ১৬২ রান ৫ উইকেট ও ১৮ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় নাবির দল। ছক্কায় ম্যাচের ইতি টানেন নাবি।  

বাবা স্পিনিং অলরাউন্ডার হলেও ছেলে হাসান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় আছেন তিনি। ২০২৩ সালে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিনি ফিফটি করেন ৩২ বলে। আফগানিস্তানের হয়ে খেলেন ২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। একই বছর বিশ ওভারের প্রতিযোগিতা কাবুল প্রিমিয়ার লিগে ১৯ ছক্কা ও ৮ চারে ৫১ বলে ১৫৬ রানের ইনিংস খেলে সাড়া ফেলে দেন তিনি।

গত মে মাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে সেঞ্চুরি করে আবার খবরের শিরোনাম হন হাসান। এখন পর্যন্ত চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২১.৫০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৫৯৯। 

আফগান ক্রিকেটের প্রথম বৈশ্বিক তারকা নাবি গত ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, একদিন ছেলের সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

সেই দিন হয়তো বেশি দূরে নয়!