হংকংকে ৩৮ রানে গুঁড়িয়ে সুপার ফোরে পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ল হংকং, নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় পেল পাকিস্তান।
মন্থর উইকেট। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও হলো মন্থর। তবে শেষ দিকে উঠল ঝড়। তাতে দলটি পেল বড় পুঁজি। পরে তাদের পেস-স্পিনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল হংকংয়ের ব্যাটিং। বিশাল জয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠল পাকিস্তান।
ক্রিকেটীয় শক্তি-সামর্থ্য আর অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য বিশাল। মাঠের লড়াইয়েও পড়ল সেটির প্রভাব।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের জয় ১৫৫ রানে। শারজাহতে ১৯৩ রানের পুঁজি গড়ে হংকংকে স্রেফ ৩৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাবর আজমের দল।
টি-টোয়েন্টিতে হংকংয়ের সবচেয়ে ছোট ইনিংস এটিই। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নেপালের বিপক্ষে ৬৯ রান ছিল তাদের আগের সর্বনিম্ন।
পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষেও কোনো দলের সর্বনিম্ন স্কোর এই ৩৮। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯ রান করেছিল নেদারল্যান্ডস।
২০ ওভারের ক্রিকেটে রানের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয় এটি। ২০১৮ সালে করাচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের রেকর্ড ১৪৩ রানে জিতেছিল তারা।
‘এ’ গ্রুপ থেকে ভারতের পর সুপার ফোরে উঠল পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপ থেকে এই পর্বে জায়গা পেয়েছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে ৬৪ রান করা পাকিস্তান পরের ১০ ওভারে তোলে ১২৯ রান।
ফিফটি করেন দুই জন। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৮, ফখর জামান ৪১ বলে করেন ৫৩ রান। শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৫ বলে ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৩৫ রান করেন খুশদিল শাহ।
জবাবে হংকংয়ের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। পাকিস্তানের কোনো বোলারের রান খরচও স্পর্শ করেনি দুই অঙ্ক!
৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার লেগ স্পিনার শাদাব খান। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ৫ রানে নেন ৩টি। পেসার নাসিম শাহ ২ উইকেট নেন ৭ রান দিয়ে।
টুর্নামেন্টে দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল ভারতের বিপক্ষে। ম্যাচটি তাই পরিণত হয় নক আউটে।
টি-টোয়েন্টিতে হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম দেখায় প্রথম দুই ওভারে পাকিস্তান তুলতে পারে স্রেফ ৭ রান। তৃতীয় ওভারে অফ স্পিনার এহসান খানকে একটি চার মারার পরের বলেই বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বাবর।
ভারতের বিপক্ষে ১০ রানের পর পাকিস্তান অধিনায়ক এবার করেন ৯ রান।
রিজওয়ান ও ফখর এরপর শতরানের জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে। শুরুতে দুজনই সময় নেন একটু। পরে বাড়ান রানের গতি। ফখর ১৮ রানে বেঁচে যান আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে।
রিজওয়ান ১৪তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন ৪২ বলে। ইয়াসিম মুর্তজাকে ছক্কায় উড়িয়ে ৩৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন ফখর। দুজনের জুটি শতরান স্পর্শ করে ৭৩ বলে।
ফিফটির পরপরই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ফখর। ভাঙে ৮১ বলে ১১৬ রানের জুটি। ৩ চার ও ২ ছক্কায় গড়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৫৩ রানের ইনিংস।
পরে আরেক বাঁহাতি খুশদিলের তাণ্ডবে দুইশর কাছাকাছি যায় পাকিস্তানের সংগ্রহ। শেষ ওভারে তিনি চারটি ছক্কা মারেন পেসার আইজাজ খানকে।
শুরুতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা রিজওয়ানের ৭৮ রানের ইনিংস সাজানো ৬ চার ও এক ছক্কায়।
এই দুজনের জুটিতে ৬৪ রান আসে স্রেফ ২৩ বলে। শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৭৭ রান।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা হংকং রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায়। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে দারুণ বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়া নাসিম এবার নিজের দ্বিতীয় ওভারে ধরেন জোড়া শিকার। তিনি ফিরিয়ে দেন নিজাকাত খান ও বাবর হায়াতকে। হংকং অধিনায়ক নিজাকাতের ৮ রানই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে ইনিংসের সর্বোচ্চ!
পঞ্চম ওভারে আরেক পেসার শাহনওয়াজ দাহানির বলে খুশদিলের দারুণ ক্যাচে ফেরেন ইয়াসিম।
এরপর দুই স্পিনার শাদাব ও নওয়াজের ‘শো’ শুরু। প্রথমবার আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় বলে আইজাজ খানকে বোল্ড করে দেন শাদাব। নওয়াজ তার প্রথম ওভারে তুলে নেন ২ উইকেট।
এই দুই স্পিনার দুই প্রান্ত থেকে টানা বোলিংয়ে বাকি চারটি উইকেটও ভাগ করে নেন নিজেদের মধ্যে।
অপরাজিত ফিফটির জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অবশ্য রিজওয়ান।
সুপার ফোরে প্রথম ম্যাচে শনিবার মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। রোববার আবার ভারত-পাকিস্তান মহারণ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৩/২ (রিজওয়ান ৭৮*, বাবর ৯, ফখর ৫৩, খুশদিল ৩৫*; হারুন ২-০-১৪-০, আয়ুশ ৩-০-৩৩-০, এহসান ৪-০-২৮-২, আইজাজ ৩-০-৪৪-০, ইয়াসিম ৪-০-৩৬-০, গজনফার ৪-০-৩৮-০)
হংকং: ১০.৪ ওভারে ৩৮ (নিজাকাত ৮, ইয়াসিম ২, বাবর ০, কিঞ্চিৎ ৬, আইজাজ ১, ম্যাককেনি ৪, জিশান ৩, এহসান ০*, আয়ুশ ১, গজনফার ০; নাসিম ২-০-৭-২, দাহানি ২-১-৭-১, রউফ ১-০-৬-০, শাদাব ২.৪-০-৮-৪, নওয়াজ ২-০-৫-৩)
ফল: পাকিস্তান ১৫৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ রিজওয়ান
