সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদ চাকসুর
“দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে।”
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে পরিবর্তন আনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—চাকসু।
বুধবার বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে ‘নিয়োগ নিয়ে রাজনীতি, চলবে না চলবে না’, ‘নিয়োগ নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘নব্য কোটার গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, পয়সা দিয়ে চাকরি পায়’, ‘চাকরি নিয়ে দলীয়করণ, চলবে না চলবে না’, ‘ভাইভা নিয়ে প্রহসন, চলবে না চলবে না’স্লোগান দিতে শোনা যায়।
কর্মসূচিতে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, “আমরা কেন এখানে দাঁড়িয়েছি, সেটি পরিষ্কার। হাসিনা সরকারের সময়ে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটি সংস্কার করেছিল।
“এখন আবার বিএনপি সেই পথেই হাঁটছে; দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা দেখেছেন, কীভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
“গত ১৭ বছরে এসব ব্যক্তির অনেকের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব ছিল না। ব্যানার ছিল, কিন্তু লোক ছিল না। এখন তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। তাই সংশ্লিষ্টদের অসৎ উদ্দেশ্য থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। মেধার মূল্যায়ন করুন।”
চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন বলেন, “ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর রাখা হচ্ছে। সালাউদ্দিন আহমেদ একসময় বলেছিলেন, চাকরির ক্ষেত্রে ভাইভার মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। ক্ষমতায় আসার আগে তারা যে বিষয়টি বুঝেছিলেন, এখন কেন সেটি বুঝতে পারছেন না?
“আগে কোটার মাধ্যমে বৈষম্য করা হতো, এখন ভাইভার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ও এলাকার প্রভাব প্রাধান্য পেতে পারে। ভাইভায় বেশি নম্বর রাখা হলে প্রার্থীদের সঠিকভাবে যাচাই করার সুযোগ থাকে না। এর মাধ্যমে ঘুষ-বাণিজ্য শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।”
