২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভুটানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ভুটান তাদের পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য চাইলে বাংলাদেশের দুটি সমুদ্র বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

ভুটানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ওয়াংচুক এবং রানি জেটসুন পেমার। উপস্থিত ছিলেন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 May 2023, 11:35 AM

Updated : 07 May 2023, 12:19 PM

পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন,” আমরা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। ইতোমধ্যে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে দেওয়া হয়েছে। আপনারা চাইলে আমরা কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে পারি।“

এছাড়া ভুটান তাদের পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য চাইলে বাংলাদেশের দুটি সমুদ্র বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বাসস জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে লন্ডনে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ওয়াংচুক এবং রানি জেটসুন পেমারের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব রাখেন।

ভুটানের রাজা ও রানি লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে পৌঁছালে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা তাদের স্বাগত জানান।

পরে সংবাদ সম্মেলনে ৫০ মিনিটের বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

মোমেন বলেন, “রাজা ওয়াংচুক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে তার দেশে একটি প্রশাসনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাওয়ার কথা বলায় শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ওই প্রস্তাব দেন। ভুটান সুখী দেশ, তাদের দেশের পরিবেশ বিপন্ন করতে চায় না।“

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রেলপথসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “ভুটান বাংলাদেশের দুটি বন্দর এবং সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। কারণ, আমরা সেগুলো এই উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছি।“

রাজা নামগিল ওয়াংচুক ভারত হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ট্রানজিট পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মোমেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভুটানের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে আমরা বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলব’।“

রাজা নামগিল ওয়াংচুক জানান, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী-দুজনেরই লেখাপড়া বাংলাদেশে হওয়ায়, এ দেশের প্রতি তাদের বিশেষ ‘অনুরাগ’ আছে। শেরিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই এক সময়ে বাংলাদেশ সফর করতে চান।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ‘অগ্রগতির’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভুটানের রাজা ও রানি। দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও পারিবারিক বিষয়ও এসেছে তাদের আলোচনায়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।