তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার ধারাবাহিকতা রাখল রবি
“অর্থনৈতিক স্থবিরতার এই পরিস্থিতিতে মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে রবি তার দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ দিল আরেকবার।”
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জনের খবর দিয়েছে রবি আজিয়াটা পিএলসি।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ এই মোবাইল অপারেটর বলেছে, “অর্থনৈতিক স্থবিরতার এই পরিস্থিতিতে মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে রবি তার দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ দিল আরেকবার।”
চলতি বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে রবি বলেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৫১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
তবে ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় মোট আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, রবির কর-পরবর্তী মুনাফা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা বলেন, “তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় রবির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল থেকে ভালো ছিল। তাছাড়া দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল গ্রাহকদের টেলিকম সেবাগ্রহণে খরচের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
“তবে আমাদের ব্যয় ব্যবস্থাপনা প্রোগ্রামে বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যা আমাদের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী।”
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির আয়কর, অবচয় ও অবচয়ন বাদে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ কোটি ১০ লাখ টাকা (৫১ দশমিক ৫ শতাংশ মার্জিনসহ)।
এ সময় আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই মুনাফা ৪ শতাংশ কমেছে এবং গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
তবে তৃতীয় প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফায় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখেছে রবি।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রবি সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৭০ টাকা জমা দিয়েছে, যা তাদের ওই প্রান্তিকের মোট আয়ের ৫৫ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মূলধনি বিনিয়োগ ছিল ৩১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০ দশমিক ৪৬ টাকা।
এ বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ লাখ বেশি।
এই প্রান্তিকে ডেটা গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ। মোট ডেটা গ্রাহকের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪ কোটি ৪৮ লাখে।
একই সঙ্গে ১১ লাখ নতুন ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় মোট ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ।
তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ ছিলেন ডেটা গ্রাহক এবং ৬৯ শতাংশ ছিলেন ফোরজি গ্রাহক।
এ হার ‘দেশের টেলিকম কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ’ দাবি করে রবি বলছে, এই প্রান্তিক শেষে রবির ফোরজি সাইটের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টি, যার মাধ্যমে ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ মানুষ ফোরজি কভারেজের আওতায় এসেছে।
কোম্পানি বলছে, রবি আজিয়াটা ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা অব্যাহত রেখেছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি গতিশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং টেলিকম খাতে তার নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
