সুতা আমদানিতে কড়াকড়ি: আদেশ স্থগিত চেয়ে এনবিআরকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি
আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনবিআর মঙ্গলবার আদেশটি জারি করেছিল।
রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় সুতা আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা স্থগিত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের মাধ্যমে সুতা আমদানির সাধারণ আদেশ জারির ছয় দিনের মাথায় এটি স্থগিতের অনুরোধ করল সরকারের একটি দপ্তর।
রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৮ শাখা থেকে চিঠিটি এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয় বলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর তথ্য দিয়েছে।
আদেশটি এখন পুনর্বিবেচনার জন্য স্থগিত রাখার প্রক্রিয়ায় গেছে। তবে এনবিআর এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। নতুন করে কোনো আদেশও জারি করেনি।
গেল মঙ্গলবারের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধার আওতায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানা প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি সাপেক্ষে এ সুতা আমদানি করতে পারবে।
এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, “১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের মাধ্যমে আমদানি সংক্রান্ত আদেশটি অধিকতর পর্যালোচনার নিমিত্ত স্থগিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”
এনবিআর সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় টেক্সটাইল শিল্প মালিকদের সংগঠন-বিটিএমএ। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।
নতুন আদেশ বলছে, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির পর তা কেবল অবমুক্ত হবে তখন, যখন ওই সুতার মাধ্যমে তৈরি পণ্যের রপ্তানি আয় দেশে আসবে।
এছাড়াও এ আমদানি এবং অবমুক্তির জন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিটিএমএ—এই তিনটি বাণিজ্য সংগঠনের যেকোনো একটির প্রত্যয়ন কাস্টমস স্টেশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে, বন্ডেড রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে এখন থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নন-বন্ডেড কারখানাগুলো বর্তমানে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, সেটিই অনুসরণ করার বিধান হল।
১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা দেশের মোট সুতা আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ। গতবছর ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতা আমদানি হয়েছে।
ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানি করতে হলে এক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা বলছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।
স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং বন্ড সুবিধার ‘অপব্যবহার রোধে’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন এবং অন্য অংশীজনরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কাজ করে আসছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সুপারিশ এনবিআরের কাছে পাঠানোও হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার এসে এ বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করে দেয়, যার প্রধান করা হয় বাণিজ্যমন্ত্রীকে। গত ২০ অগাস্ট প্রথম সভা হয় এ কমিটির।
সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে, নির্দিষ্ট এইচএস কোডের (৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭) আওতায় ১০-৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে এই শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সে অনুযায়ীই আদেশ জারি করে তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হওয়ার কথা বলেছিল এনবিআর।
আগের খবর:
