২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

হামের টিকাদান কর্মসূচি শেষ হবে কোরবানির ঈদের আগেই: উপদেষ্টা জাহেদ

প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকাদান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2026, 04:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:21 PM

কোরবানির ঈদের আগে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

শিশুরা ধাপে ধাপে টিকা পাবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।

“এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। মূল লক্ষ্য হবে মে মাসের ২১ তারিখের মধ্যে অর্থাৎ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা।"

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টার কথায়, "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটা খুবই আলোচিত ইস্যু হচ্ছে হামের নতুন করে প্রাদুর্ভাব। টিকাজনিত যে সংকট হয়েছিল সেটা আসলে আমাদের উপর এসে পড়েছে। এটার মধ্যে যে সমস্যা ছিল সেটা আসলে আগের সরকারের সময়ে ঘটেছে। আমাদের সরকার এসে আমরা খুব সিরিয়াসলি চেষ্টা করছি আয়ত্তে আনার জন্য, এটাকে ফাইট করার জন্য।”

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকা দেওয়া হবে, এছাড়া ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। 

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, "হাম সংক্রামক রোগ। সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা একবার ছোঁয়াচেও, কাছাকাছি থাকলেও কারো এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আইসোলেশন অবশ্যই, সেটা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরকম একটা জরুরি পরিস্থিতিতে সেটাই করার কথা ছিল। এছাড়া জেলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

"আমরা শুরুতে বলেছি যে এটা আমাদের অবহেলা বা আমাদের সংকট না। কিন্তু খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার হচ্ছে আমাদের শিশুরা মৃত্যুবরণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট না। আমরা বুঝি এবং আমরা ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি না হয়, আমাদের গাফিলতির কারণে যাতে কোনো পরিস্থিতি না হয় আমরা সেই চেষ্টা সর্বোচ্চভাবে করব। আমি নিজে একজন ডাক্তার। আমি জানি এটা অত্যন্ত প্রিভেন্টেবল একটা রোগ। সেই রোগে যখন শিশুরা মারা যায় খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার।"

জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্য সেবা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, “১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ হবেন নারী।"