০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গোৎসব: নবমীতে 'ষোলোকলা পূর্ণ', মণ্ডপে বিদায়ের সুর

১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Oct 2025, 12:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী তিথিতে পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হলেও, দেবী দুর্গার বিদায়ের সুরও বেজে ওঠে বিসর্জনের একদিন আগেই।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবার সকাল থেকে নবমীর তিথিতে সন্ধিপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর বন্দনা চলে ভক্তদের আরাধানায়।

ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসর ঘণ্টায় মুখরিত হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। রোববার থেকে দেশজুড়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি মন্দির-মণ্ডপে উৎসবে মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নবমীতে এসেই পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হয় এবং বিদায়ের সুর বাজে। দশমীতে বিদায় জানানো হয়।"

নবমী তিথি শুরুই হয় মূলত সন্ধিপূজা দিয়ে। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিটজুড়ে এই সন্ধিপূজা হয়। ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সকাল ৯টা নাগাদ পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং ১১টার পর অঞ্জলি দেন ভক্তরা। নবমীর সন্ধ্যায় দেবীদুর্গার ‘মহাআরতি’ হওয়ারও কথা রয়েছে।

সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দেবীকে অঞ্জলি দিতে আসেন ভক্তরা। আজিমপুর থেকে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে এসেছিলেন রামচরণ দাশ। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মাকে নিয়ে দেবীর কাছে এসেছি। শেষবেলায় দেবীর কাছে পরিবারসহ সবার জন্যই মঙ্গল কামনা করেছি।"

গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল। ষষ্ঠী তিথিতে রোববার বেলতলায় দেবীর অধিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়।

হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সপ্তমীতে পূজা দিলে সপ্তজনমের, মানে সাত জনমের পাপ মোচন হয়ে যায়।"

"আর অষ্টমীতে 'অষ্টমঙ্গল লাভ' করা হয়। নবমীতে 'পূর্ণপূজা'র পর দশমীতে দেবী 'অপরাজিতা' হন। দশমীতে দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনাও জেগে ওঠে।"

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হঙো গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়। দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলায় চড়ে। আর দোলায় দেবীর গমনকে মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত ধরা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধরায় আসেন। সন্তানদের নিয়ে কয়েকটি দিন পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, ত্রেতাযুগে ভগবান রাম তার স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। দেবীর সেই আগমণের সময়ই দুর্গোৎসব।

রাম শরৎকালে দেবীকে আহ্বান করেছিলেন বলে এ পূজা শারদীয় দুর্গা পূজা নামেও পরিচিত।

এবারের পূজায় কেবল ঢাকাতে গতবারের তুলনায় ৭টি বেড়ে মোট ২৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সারাদেশে মোট মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা গতবারের তুলনায় প্রায় হাজারখানেক বেশি।

বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন সকালে হবে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন। দুপুর ১২টায় থাকবে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিকেল ৩টায় বের হবে বিজয়া শোভাযাত্রা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "দশমীতে বিহিত পূজার সাথে আরো কিছু সংযুক্তি রয়েছে, যেমন সিঁদুর খেলা, মাকে মিষ্টি দান, শোভাযাত্রা এবং প্রতিমা বিসর্জন।"

বিজয়া দশমীতে একদিকে ‘আনন্দময়ী মাকে’ বিদায় জানানোর পালা, আবার আসন্ন বছর ‘মা’ আবার আসবেন সেই অপেক্ষার শুরু। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।