এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শিক্ষকরা অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্ত করাসহ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন।
স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট নির্বাহী কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের মহাসচিব আব্দুল হান্নান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইতোমধ্যে এমপিওর আবেদন করা এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি এবং অনুদানবিহীন এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে এমপিভুক্ত করার অবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবি তুলেছেন তারা।
তিনি বলেন, তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে, ২০২৫ সালের ১০ অগাস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ মাদ্রাসাগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদিত শূন্যপদে কর্মরত শিক্ষকদের বেতনভাতার সরকারি অংশ বা এমপিও জুলাই মাসেই ছাড় করা, বৃত্তির জন্য নির্বাচিত এবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের টাকা অগাস্ট মাসের মধ্যে পরিশোধ. মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা শাখা খুলে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া ও ‘দুর্নীতিতে যুক্ত’ কর্মকর্তাদের শাস্তি।
হান্নান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার এবতেদায়ী মাদ্রসাগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করে জাতীয়করণের আশ্বাস দেওয়ার দেড় বছর পরেও একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত বা জাতীয়করণ করা হয়নি।
“ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এবতেদায়ী শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নির্বাচিত হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের বৃত্তির টাকা থেকেও বঞ্চিত করছে।”
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেই আলিয়া মাদ্রাসা পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন হয় এবতেদায়ী মাদ্রাসায়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা তিন হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে থাকেন।
এর বাইরে দেশে আরও ৫ হাজার ৯৩২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো সরকারি কোনো অনুদান পায় না।
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
ওই বছরের ২৫ জুন এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করতে গতবছরের ৮ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
গত বছরের ৩ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস। তবে এ মাদ্রাসাগুলোকে এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া আশ্বাস মতে এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গেল ২১ মে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। এরপর ৭ জুন থেকে তারা অনশন কর্মসূচি পালন করেন। পরে এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়ে তারা গত ১৮ জুন আন্দোলন স্থগিত করেন।
