০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সালমান রহমানের পক্ষে লড়তে চান ব্রিটিশ আইনজীবী, বার কাউন্সিলে আবেদন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাওয়ার পর সালমান এফ রহমানের পক্ষে কারাগার থেকে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 05:38 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:12 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াই করতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যের আইনজীবী গ্রায়েম এল হল।

লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের এই আইনজীবীর পক্ষে গত ১৪ অগাস্ট বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদনের রিসিভ কপিতে ২৪ অগাস্টের তারিখ রয়েছে।

সালমান এফ রহমানের আইনজীবী আসিফুর রহমান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে গ্রায়েম এল হল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এরপর তিনি যাবতীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য ই-মেইলে পাঠান। আমরা সেটি বার কাউন্সিল সেক্রেটারি বরাবর দাখিল করি। বার কাউন্সিলের আবেদন গ্রহণ সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

“গত ১১ অগাস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথমে একটি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে সালমান এফ রহমানের পক্ষে কারাগার থেকে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়।”

আইনজীবী আসিফুর বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১১(৮)-এর বিধান উল্লেখ করে স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়েছেন গ্রায়েম এল হল। আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

সেদিন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এর বিরোধিতা করে বলেছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আগে বার কাউন্সিলের অনুমতি আনতে হবে। 

তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার আসামিপক্ষকে বার কাউন্সিলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এরই মধ্যে ১১ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে- জুলাই আন্দোলন দমনে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া’ এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলে রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের’ কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া তাদের ধারাবাহিক ‘ষড়যন্ত্র, প্ররোচণা ও উসকানিতে ওই বছরের ২৩ এবং ২৮ জুলাই মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের হত্যাযজ্ঞ চালানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

একই বছরের ৪ অগাস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতুসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে আরও ১৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে।