ফেনীর ইতিহাসে রেকর্ড বৃষ্টিপাত, চলবে বুধবারও
২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে ফেনীতে, যা এ জেলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গত এক দিনে সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হলেও ফেনীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার নিয়মিত বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফেনীর ইতিহাসে ২৪ ঘণ্টায় এটি রেকর্ড বৃষ্টিপাত। সেই সঙ্গে এই মৌসুমে ২৪ ঘণ্টায় দেশেরও সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড এটি।”
প্রবল বৃষ্টিপাতে জেলাটির বিভিন্ন অঞ্চল এরইমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গেল বছর ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল; যাতে বিপুল পরিমাণ ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাণ হারান অনেক মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টা ফেনী জেলার মুহুরি ও সেলোনিয়া নদীসমূহের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীগুলোর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান থাকতে পারে।
ফেনী ছাড়াও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ২৪৮ মিলিমিটার, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২২৫, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ১৮৯ মিলিমিটার, সন্দীপে ১৬৬, ভোলায় ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল টাঙ্গাইলে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর ডিমলায়; ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অবস্থান পরিবর্তন হয়নি লঘুচাপের, ৩ নম্বর সংকেত বহাল
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই অবস্থানে আছে। ফলে, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগেই মঙ্গলবার দিনভর কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা বুধবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক।
মঙ্গলবার রাতে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অবস্থানগত কারণে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝুলে আছে বিধায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। বুধবারের পর বৃষ্টি কমে যাবে বলে আশা করছি।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তরের মঙ্গলবার সন্ধ্যার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও-কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
