জাতিসংঘের উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর মেয়াদ বাড়ল ১ বছর
“বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে,” বলেন গোয়েন লুইস।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো-ইউএনএসডিসিএফ (২০২২–২০২৬) এর সময়সীমা এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে ইউএনএসডিসিএফ-এর অগ্রগতি মূল্যায়ন, ২০২৪ সালের ফলাফল প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ২০২৫ সালের জন্য নতুন অগ্রাধিকারও নির্ধারণ করা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বলা হয়েছে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ বাড়ানোয় ইউএনএসডিসিএফ-এর সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এতে জলবায়ু সংকট, সুশাসন, মানবাধিকার ও প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে জাতিসংঘের সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিশেষ এক অধিবেশনে যুক সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গোয়েন লুইস বলেন, “বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।”
বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব অভিন্ন মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে অটল রয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আমরা স্থায়ীভাবে সংস্কার, জলবায়ু অভিঘাত সহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা এবং সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
সচিব সিদ্দিকী সরকারের তরফে জাতিসংঘের অব্যাহত অংশীদারিত্বের প্রশংসা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ জলবায়ু উন্নয়ন অংশীদারত্বের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীদের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুব কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ ও ‘ইমপ্যাক্ট ফান্ডিং’কে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন তিনি।
আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচন সামনে রেখে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার ও জাতিসংঘ সহায়তার ওপরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সচিব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশে ২১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবেলা ও নারী অধিকারসহ নানা খাতে কাজ হয়েছে।
জাতিসংঘের সহায়তায় ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সেবা পেয়েছে, ৫৬ লাখ কিশোরী জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকা পেয়েছে এবং ৬৬ শতাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কার্যকর হয়েছে।
ইউএনএসডিসিএফ কাঠামো পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে: টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানব উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, সুশাসন এবং জেন্ডার সমতা।
জেএসসির পরবর্তী বৈঠক হবে এ বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে।
