০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গেন্ডারিয়ার গোলাগুলি বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘আধিপত্যের বিরোধে’

“মনিরের বিষয়ে খোঁজ নেন, তাহলে পুরো ঘটনা বুঝতে পারবেন,” বলেন ওয়ারী বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Sep 2026, 12:16 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় একটি সরু গলিতে রোববার সন্ধ্যার পর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় নানা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে একদল যুবক। চিৎকার-চেঁচামেচির সঙ্গে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবকদের ছোড়া এলোপাথারি গুলিতে আহত হন ৩ জন।

রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের ওই গলিতে ঘটনার দুই দিন পরেও চাপা ভয়। স্থানীয়দের বেশির ভাগই কথা বলতে চান না, কেউ কেউ ঘটনার বিষয়ে দুয়েকটা কথা বললেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সোমবার স্থানীয় মুদি দোকানি ইদ্রিস বলেন, “গুলির যে শব্দগুলা হইছে, গুলিগুলা যে করছে, কোনদিকে কোনডা করছে তার তো নিশ্চয়তা নাই। জীবন বাঁচানোর জন্য আমি তাড়াতাড়ি কইরা মাল নামাইয়া গেছিগা।”

অতর্কিত এমন সশস্ত্র হামলায় ইদ্রিসের মতো হতবাক এলাকাবাসীর সবাই। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ওই এলাকায় আগে কখনো দেখেননি। এভাবে এলোপাথারি গুলিতে আশেপাশের বাড়ির যে কেউ বিদ্ধ হতে পারতেন আশঙ্কার আতঙ্ক তাদের এখনো কাটেনি।

রোববার সন্ধ্যার পর মসজিদের ঠিক বিপরীতে বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘিরে এ হামলা চালানো হয়। তার ওই কার্যালয় ভাংচুর করার পাশাপাশি হামলা চলে আশপাশের কয়েকটি দোকানেও।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন চা দোকানি আলমগীর (৩৩) এবং আশা আক্তার (২০) ও সিয়াম (১৮) ।

এর মধ্যে সিয়াম এক দোকানমালিকের ভায়রার ছেলে। বেড়াতে গিয়ে দোকানমালিকের অনুপস্থিতিতে দোকানে বসেছিলেন। ঘটনার সময় তড়িঘড়ি করে শাটার বন্ধ করে দিলে হামলাকারীদের একজন শাটারের বাইরে থেকে গুলি করলে সিয়াম ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়।

বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আশার গুলি লেগেছে পায়ে। আর চা দোকানি আলমগীরের গুলি লেগেছে মাথায়।

ওই সময় মনিরের কার্যালয়ে বসে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ওমর নবী বাবুকেও একটি কোপ দেওয়া হয় বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

এ হামলার পেছনে প্রাথমিকভাবে মাদক কারবারের কথা উঠলেও এলাকায় চাঁদাবাজিসহ স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের অন্তর্কোন্দলের কথা বলছে পুলিশ। 

বিএনপি নেতা মনির দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিলেন, এলাকায় ফিরে নিজের আধিপত্য বিস্তারের জেরে এমন ঘটনার সূত্রপাত।

তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ার তথ্য দিয়েছেন গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, “মামলা যদি কেউ দেয় মামলা নিব, যে পক্ষই দেয় মামলা নিব। এখনও কেউ আসে নাই মামলা করতে। কিন্তু গুলি কে করছে, এটাই তো মূল কথা! এগুলো সিসিটিভির ভিডিওতে শনাক্ত হইতেছে। তারা তো এখন এলাকায় নাই। এক-দুইজন যদি ধরা পড়ে যায়, পড়বে অবশ্যই।

“নাম-ঠিকানা কয়েকটা সংগ্রহ করে ফেলছি। বাংলাদেশের যেখানে থাকুক ধরে নিয়ে আসব। দু-একজন ধরা পড়লেই পুরো বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

বিএনপি কর্মী মনিরের কার্যালয়, যেটি রোববারের গোলাগুলির পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

বিএনপি কর্মী মনিরের কার্যালয়, যেটি রোববারের গোলাগুলির পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেখানে

রোববার বিকালে গেন্ডারিয়ার রেললাইন সংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে রাকিব, বিল্লাল ও রিফাত নামে তিন তরুণকে ‘মাদক বিক্রির সময়’ আটক করে বিএনপি কর্মী মনিরের লোকজন। পরে তাদেরকে মনিরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তাদের মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল এসে হামলা চালায়। এলোপাথারি গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি মনিরের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মুদি দোকানি ইদ্রিস বলেন, “না লাইন কেউ বন্ধ করে নাই। এমনিতেই কারেন্ট আসে যায়। ওই সময় কারেন্ট যাওয়ায় এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়লে আতঙ্ক আরও বাইড়া যায়।”

তিনি বলেন, “ওইসব বিষয়ে কোনকিছু জিগাইলে বলতে পারমু না। আমরা জীবন বাঁচাইতে যা করার তহন তাই করছি। আমাগোরে জিজ্ঞাসা কইরেন না, আমরা ঝামেলার মধ্যে জড়াইতে চাই না। এগুলোর মধ্যে জড়াইলে আমরা বিপদে পইড়া যাই।

“কে আসছে দেখিও নাই ঠিকঠাক, শুনছি ধর ধর মার মার। অনেক মানুষ, আমি কি এইখানে থাইকা গুলি খামু? শাটার নামাইয়া তালা না মাইরাই সামনে গেছিগা, পরে আইসা আবার তালা মারছি।”

এ সময় তিনি পাশের দোকান দেখিয়ে বলেন, “লোকজন আসে, নানা কথা জিগায়। এজন্য সে এলাকায় চলে গেছে। পেট চলে না, তাই দোকান খুলছি জীবনের তাগিদে।”

৩ যুবককে ধরে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কে ধইরা আনছে জানি না, অনেক মানুষ জড়ো হইয়া আছিল। হেরপর দেখলাম পুলিশ আইছে। পুলিশ যাওয়ার একটু পরেই এ ঘটনা।”

জুলহাস নামে পাশের এক ভাঙ্গারির দোকানি বলেন, “শুনছি ‘অটো সজলের’ লোক কিছু মালসহ ধরা পড়ছে, তাগোরে পুলিশে দিয়া দিছে। এরপরে এ ঘটনা। আমরা তো জান লইয়া দৌড়াইয়া কূল পাই না, জান বাঁচাইয়া পারি না। ওই সময় কারা আসছিল কিছু জানি না।”

নেপথ্যে কী?

ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা এই ওয়ারী বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মনিরের বিষয়ে খোঁজ নেন, তাহলে পুরো ঘটনা বুঝতে পারবেন।”

মনির হোসেন বেশ ‘টাকাপয়সাওয়ালা’ বলে চাউর আছে এলাকায়। সেখানে তার একাধিক বাড়ি ও কিছু দোকানপাটও রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৭ বছর তিনি পলাতক ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, চব্বিশের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলাকায় ফিরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালান মনির। রেললাইন সংলগ্ন মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ রয়েছে তার।

মনিরের বড় ভাই শাহাবুদ্দিন এক সময় এলাকার শীর্ষ ফেনসিডিল কারবারি ছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। 

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ১৭ বছর এলাকায় ছিলেন না। রোববার শাহবুদ্দিনের বাড়ির ফটকেও ভাংচুর চালায় একদল অস্ত্রধারী।

এদিকে এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে অটো সজলের হাতে। সজলও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য দিয়েছেন সেখানকার সাবেক কাউন্সিলর ও গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সভাপতি মো. মকবুল ইসলাম টিপু।

তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অটো সজলও পলিটিক্যাল মামলা খাইছে অন্তত ৮-১০ টা। তার দাদা বিএনপির কর্মী ছিল, ফুপু, চাচীরা বিএনপির কর্মী।”

তবে অটো সজল যে মাদক কারবারি, সেটি ‘আনডাউটলি সত্য’ বলেও স্বীকার করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “সে যে এলাকায় থাকে, সেখানকার ৮০ শতাংশ আমার ভোটার।”

পুলিশও বলছে, অটো সজল এলাকার ‘চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী’।

চলতি বছরের ২ মার্চ সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযানে গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে গুলি করা হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ বলছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে অটো সজল। যার পরিপ্রেক্ষিতে গেল ১৮ জুন সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই দিন তার দেওয়া তথ্যে স্বামীবাগের একটি বাসা থেকে দুটি পিস্তলসহ সজলের আরো তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তখন পর্যন্ত পুলিশ মোট ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা বললেও গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মঙ্গলবার বলেছেন, “আমরা অটো সজল ও তার ভাইব্রাদারসহ মোট ৯ জনকে ৬টি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। তারা কেউ এখন শক্ত অবস্থানে নাই।”

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অটো সজল মাদক ব্যবসা করে সত্য। রেললাইনে যারা মাদক বেচে, সব অটো সজলের লোক। কিন্তু এলাকায় খুব জনপ্রিয়; টুকটাক দান-দক্ষিণা করে জন্য হয়ত।”

এদিকে বিএনপির মনির মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে অটো সজলকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবতে শুরু করেন।

গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক জামে মসজিদের গলিতে রোববার গোলাগুলির পর থেকে লোকজনের উপস্থিতি কম। 

গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক জামে মসজিদের গলিতে রোববার গোলাগুলির পর থেকে লোকজনের উপস্থিতি কম।

এদিকে বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম টিপুকেও ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবতে শুরু করেছিল মনির। তার ধারণা, অটো সজলের দিকে টিপু ‘ঝুঁকে যেতে পারেন’।

এর জেরে ঘটনার দিন রোববার প্রথমে সজলের বাবা আলম ও চাচা রাসেলকে তাদের বাসায় গিয়ে বেধড়ক মারধর করে মনির ও তার লোকজন। এরপর মাদকসহ ৩ জনকে ধরে নিজ কার্যালয়ে এনে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।

এরপরই সশস্ত্র ওই যুবকের দলটি মনিরের কার্যালয় ঘিরে হামলা ও এলোপাথারি গুলি চালিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে।

কার্যালয়ে ভাঙচুর ও গোলাগুলির পর মনিরের বেশ কিছু অনুসারী তাদেরকে ধাওয়া দেয়। তখন তারা গলির মাথায় দাড়িয়ে গুলি ছোড়ে। এ সময় মনির হোসেন একটি পিস্তল দিয়ে এলোপাথারি গুলি ছুড়েছেন, তবে তার পিস্তলের কোনো লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, “অটো সজলরা সব জেলখানায়। তার বাপ-চাচা বয়স্ক মানুষ। সজল মাদক ব্যবসা করে সত্য। কিন্তু মনির তার বাপ-চাচারে বাসায় গিয়ে বেদম মারছে। এরপর আবার তাদের তিনটা লোকরে পুলিশে ধরায়ে দিছে। যে কারণে ওই ক্ষোভ থেকে পরের এই হামলার ঘটনা।”

একচ্ছত্র আধিপত্য চায় মনির?

এলাকায় প্রচলিত আছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এলাকায় ফিরে তিনি রাজনৈতিক একটা পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়ার মনোবাসনাও তার রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীর অনেকে।

মনির বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে কতটা জড়িত জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর টিপু বলেন, “সে বিএনপি করে, আমাদের সঙ্গে আছে। বিএনপি বা আমাদের লোক। সরকারি দল দেইখা আমাদের লোক, বিরোধী দল হইলে আবার আমাগ লগে থাকত না।”

মনির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিছুটা তো চেষ্টা করতেছিল। ১৭ বছর পরে আইসা নিজেরে বড় বিএনপি দাবি করতেছে।”

এর বাইরে মনির মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পায়তারা করছিল কিনা জানতে চাইলে তার ভাষ্য, “এ বিষয়টা প্রশাসন আমাকে বলছে। এর আগে আমি এসব জানতাম না।”

তিনি নিজে অটো সজলকে আশ্রয়-প্রশয় দিতেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “মনির যেভাবে উড়তেছিল, তখনতো আমার একটা সাইড নিতে হয় না? কিন্তু এর অর্থ এই না যে, প্রশাসনরে গিয়া কোনোদিন বলছি।

“অটো সজল যে ধরা খাইছে, আমি কি তদবির করছি? নাকি একদিন দেখতে গেছি। নাকি কোনদিন ১০ টা টাকা নিছি তার কাছ থেইকা?”

গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক জামে মসজিদের গলিতে রোববার গোলাগুলির পর থেকে লোকজনের উপস্থিতি কম।

গেল বছরের ২৬ অগাস্ট মকবুল ইসলাম টিপুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা। সেখানে টিপুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

টিপুর ‘প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে’ অটো সজল মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন, এমন অভিযোগও করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় তার জনপ্রিয়তায় ‘ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন অপপ্রচারের’ কথা বলেছেন টিপু।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার টিপু বলেছেন, মনিরও একদিন তাকে ফোন করে সজলের কাছ থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এর উত্তরে তিনি বলেছেন, “তোরা যে এসব করতি, কোনদিন আমারে ১০ টেকা দিছস? গরীব থাকা অবস্থায়ইতো টেকা নেই নাই, এহন কিজন্য নিতে যামু?”

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, চাঁদাবাজি করার জন্য, প্রশাসন থেকে ‘বেনিফিট’ নেওয়ার মনির এসব করে আসছেন বলে অভিযোগ টিপুর।

তবে মনির হোসেন দাবি করেন, তিনি উদ্যোগী হয়ে তিন মাদক কারবারিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে মাদক কারবারির এ হামলা চালিয়েছে।

মনিরের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি অটো সজলের বাবা আলম, ভাগ্নে রবিনসহ কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন।

ঘটনার সময় নিজের উপস্থিতি এবং গুলি ছোড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। পরে শুনতে পেরেছি।”

অটো সজল জেলে, হামলার নির্দেশ দিল কে?

সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা টিপু বলেন, “অটো সজলের কিশোর গ্যাং, অনেক পোলাপাইন তার। রেললাইনের এই মাথা থেকে ওই মাথা ওর মাদক ব্যবসা। সায়েদাবাদ ওয়াসার ওইখানে একটা টেরর গ্যাং আছে, এরাই তো মাদকের কর্মকর্তাদের লগে গোলাগুলি করছে। তবে ওইখানে লোকাল কোনো পোলাপাইন নাই; বাইরে থেইকা আনে।”

ওই গলিরই খাবারের দোকানি সোবহান বলেন, হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। কোথা থেকে তারা আসছে, সেটাও তিনি বলতে পারবেন না।

টিপু বলেন, “আমি লোকাল লোকজনরে জিগাইছি এরা কারা, ওরাও কইছে চিনে না। একসময় লোকাল মাস্তান যারা আছিল, তারা কেউ নাই। মনির একটু অবস্থান করতে চাইছিল। অটো সজলের বাপ আলম একটা পাগল, ওরে মাইরাই সে ভুলটা করছে।”

নিজের দলের কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “শেষ বয়সে আইসা মাইনষের কাছে বেইজ্জতি। আমি চুপ হইয়া গেছি, আমি কোনো পক্ষে নাই। আমি দেখতেছি। প্রশাসন যেভাবে উদ্যোগ নেয়, আমি কারো পক্ষে না, বিপক্ষেও না।”

মামলা না হলেও জড়িতদের ধরার ‘চেষ্টা করছে’ পুলিশ

গোলাগুলির পরের দিন সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ।

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তারা ২০টি গুলির খোসা এবং একটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে তারা জড়িতদের শনাক্ত করছেন।

হামলার নির্দেশদাতা এবং মোটিভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একজন না গ্রেপ্তার হইলে বলতে পারব না। আমরা কাজ করছি, অভিযান চলতেছে।”