বিক্ষিপ্ত সংঘাতের মধ্যে উৎসবমুখর প্রচার, বাড়ির পথে অন্য রকম যাত্রা
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়ার কথা তুলে ধরে মানুষকে ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে’ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন।
বড় ধরনের সহিংসতা কম হলেও সার্বিকভাবে ভোটের আবহাওয়া ছিল উৎসবমুখর; মিছিল-সমাবেশের সঙ্গে তুমুল কথার লড়াই বিতর্কের জন্ম দিয়েও মুখে ফুটেছে আশ্বাসের ঝুলি।
এমন পরিবেশে প্রচার শেষে ভোট উৎসবে যোগ দিতে ভোটকেন্দ্রমুখী হয়েছে মানুষ। গ্রামের পথে মানুষের ঢলে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা; এর মধ্যে ঈদের আনন্দ পাওয়ার অনুভূতি ঝরেছে মানুষের কণ্ঠে।
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়ার কথা তুলে ধরে মানুষকে ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে’ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার, যার শুরুটা হয়েছিল ২২ জানুয়ারি। ভোটের সরঞ্জাম আর কেন্দ্রের প্রস্তুতির জন্য বাকি সময় নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
প্রথম দিকে না হলেও শেষ দিকে প্রচার-প্রচারণা জমজমাট হয়ে ওঠার চিত্র দেখার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনে তিন দশকের বেশি সময় কাজ করে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া জেসমিন টুলী।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শেষ দিকে প্রচার বেশ জমজমাট হয়েছে। এবার একটা পরির্তন দেখা গেল, প্রার্থীরা অন্তত ভোটারের কাছে গেছে। এটা ভালো দিক।”
প্রচারের প্রথম দিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ রাজনীতির পুরনো চেহারা ফিরিয়ে এনেছিল। সে কথা তুলে ধরে জেসমিন টুলী বলেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখছে, এখানে ইসি অনেক নমনীয় ছিল। তবে সার্বিকভাবে প্রার্থীরা ভোটারের কাছে গেল–এটা আমার ভালো লেগেছে।”
রাজধানীসহ মাঠে, ঘাটে, শহরে-বন্দরে পুরো চষে বেড়িয়েছেন প্রার্থীরা; ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন তারা। কোথাও সংঘর্ষ, হামলা, সমর্থকদের মধ্যে মারামারিসহ নানা ধরনের গোলযোগও ঘটেছে।
পাল্টপাল্টি অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে নালিশ, সমাবেশে বাকযুদ্ধ হয়েছে; বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১৭টি নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তবে, ভোটের সহিংসতায় ১৫ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে টিআইবির পরিসংখ্যানে।এর মধ্যে তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে প্রাণ হারান ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া শরীফ ওসমান হাদি। শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এক জামায়াত নেতার।
নির্বাচন সামনে রেখে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হওয়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথাযথ উন্নতি না হওয়া, প্রশাসনের ‘পক্ষপাত’সহ নানা ধরনের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের সমালোচনা করেছে অনেক প্রার্থী ও দল।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, “এখন আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে রয়েছে। পরিস্থিতি যদি শান্ত থাকে, কোনো ধরনের হানাহানি বা মারপিটের দিকে না যায়, তাহলে ইলেকশন ভালো হবে।”
ভোটে থাকা দলগুলোও ‘নিজেদের স্বার্থে’ সংযত আচরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোটের শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েনের তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরে বিতর্কের মুখে সরে আসে কমিশন। এখন ভোটার আর প্রার্থীসহ নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন।
তবে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং পোলিং এজেন্টদের মোবাইল ফোন বহনে এখনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রচারের শেষ সময়ে এসে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনের প্রধান বিটিভিতে ভাষণ দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
এবার নির্বাচনের প্রচার পর্ব তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ‘সংযম’, প্রার্থীদের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ এবং সাধারণ মানুষের ‘সচেতনতার’ প্রশংসা করেন তিনি। তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও কয়েকটি সহিংস ঘটনায় প্রাণহানিতে ‘গভীর বেদনা’ প্রকাশ করেন।
ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যে কোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি, আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।
“এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ।
“রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।”
নাগরিকদের দলে দলে, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘দ্বিধাহীন চিত্তে’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ‘ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে’ প্রাধান্য দিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।”
প্রথমবারের মত দুই ভোট একসঙ্গে করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছবে ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম।
২৯৯ আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ৩০০ আসনের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে ভোট দেবেন পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। ভোট কেন্দ্র প্রায় ৪৩ হাজার। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত হয়েছে।
বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি দল ভোটে রয়েছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন প্রায় দুই হাজার প্রার্থী।
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে টানা দুই মাস ভোটের কাজ সামালের কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন।
২২ জানুয়ারি থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা প্রচারণা শেষে এখন ভোটের রায় দেওয়ার অপেক্ষায়। ভোট ঘিরে পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক দেশে আসার তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রথমবারের মত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেশে ও প্রবাস থেকে ৮ লাখ ৭৭ হাজার ভোটার ইতোমধ্যে তাদের রায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাবে, কেবর সেগুলোই গণনায় আসবে।
বাড়ির পথে অন্যরকম যাত্রা
একদিকে রূপান্তরের যাত্রার শান্তিপূর্ণ ভোটের ইঙ্গিত, অন্যদিকে ভোটের জন্য সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ বন্ধ; আবার অননুমোদিত ব্যক্তিদের অন্য নির্বাচনি এলাকায় থাকায় কমিশনের নিষেধাজ্ঞা; সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে হয়েছেন গ্রামমুখী।
ঢাকার বাইরে যাওয়ার তিন দিনের টিকেট শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন দূরপাল্লার বাস ব্যবস্থাপকরা; ঈদযাত্রার সময়ের মত ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ির পথ ধরতে দেখা গেছে মানুষকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিনই ফাঁকা হয়ে পড়ে ঢাকার সড়ক।
ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে যাওয়া আফরোজা আক্তার বলেন, “টিকিট করেও আমার সিট পর্যন্ত যেতে পারিনি। ট্রেনের ভেতর এত মানুষের চাপ পা ফেলারও জায়গা ছিল না। এটা ঈদের মত আনন্দ। বাড়িতে দীর্ঘদিন পর আসতে পেরে খুশি লাগছে। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাব। চাই দেশটার মধ্যে শান্তি আসুক।”
আরেক যাত্রী শুভ কুমার দাস বলেন, “এত মানুষ বাড়ি ফিরবে ভাবাও যাচ্ছে না। ট্রেনের এমন কোনো অংশ নেই যে মানুষের চাপ নাই। যে যার মত করে ঝুঁকি নিয়ে আসছে। কারণ একটাই, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।”
কার্যদিবসে সড়কে যেমন চিত্র দেখা যায়, তেমনটা দেখা যায়নি মঙ্গলবার সকালে। ব্যক্তিগত যানবাহন চলেছে হাতেগোনা, আর গণপরিহন চলাচল ছিলও খুবই কম।
তাতে অফিসগামীদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। বাধ্য হয়ে অনেককেই গুনতে হয়েছে অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া; বাস কম থাকায় প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট।
ঢাকার শ্যামলীতে এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে উত্তরা যাওয়ার জন্য গণপরিবহনে চড়তে পারেননি বেসরকারি চাকুরে দীপন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অফিস যাওয়ার জন্য ঘণ্টাখানেকের বেশি দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাইনি, অল্প যে দুয়েকটা বাস আসছিল ভিড়ের কারণে সেগুলোতে ওঠার অবস্থা ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে সিএনজিতে করে অফিসে এসেছি।”
>> ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হয়ে শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়।
>> ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
>> একজন ভোটার দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। সংসদের ভোটের ব্যালট হবে সাদাকালো; গণভোটেরটি গোলাপী।
‘ভোট পড়তে পারে ৬৫-৭০ শতাংশ’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ‘অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি’ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তরুণ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ দেখার কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, “তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোট দেওয়ার স্পৃহা এবার অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যদি এই ৪ কোটি তরুণের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়, তবে ভোট কাস্টিংয়ের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এছাড়া মোট ১৩ কোটি ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী।
“বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ভোটারদের প্রচার-প্রচারণা এবং উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এবার সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি নারী ভোটারদের এই উদ্দীপনা ভোটের দিনেও বজায় থাকে, তবে তা মোট পার্সেন্টেজে বড় প্রভাব ফেলবে।”
তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে সংখ্যা বলা কঠিন হলেও অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি ব্যক্তিগত ধারণা করেছি আমি। অতীতের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার উপস্থিতির হার কম হবে না, বরং বেশি হতে পারে। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের ঘরে পৌঁছাতে পারে।
“মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার-প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তাকেই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
