Published : 22 May 2013, 10:34 AM
বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি।
সাক্ষ্যে রফিকুল ইসলাম কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করায় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেননি।
এরপর বিচারক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূইয়া আগামী ২৪ জুন মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।
আদালতের পেশকার মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই মামলায় এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে ১৪ জনের সাক্ষ্য নেয়া হলো।
এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য দেন কবি রফিক আজাদ, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, হুমায়ুন আজাদের ছেলে অনন্য আজাদ, হুমায়ুন আজাদের ভাই সাজ্জাদ কবির, ফটো সাংবাদিক ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ পাভেল ও রিকশাচালক সাইফুর রহমান প্রমুখ।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমীর উল্টো পাশের ফুটপাতে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ।
সাক্ষ্যে রফিকুল সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে ছিলেন, হৈ চৈ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে হুমায়ুন আজাদকে মারাত্মক আহত অবস্থায় দেখতে পান। তবে কোনো হামলাকারীকে দেখেননি তিনি।
হুমায়ুন আজাদের ওপর চরমপন্থী ইসলামী জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছিলো বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
কয়েক মাস চিকিৎসা নেয়ার পর ২০০৪ সালের অগাস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। পরে ১২ অগাস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে একটি একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে এটি হত্যামামলায় পরিণত হয়।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন হয়।
আসামিরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেল।
আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। আসামিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে সাবু পলাতক আছেন।
হুমায়ুন আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ওয়াজে বিষোদগার করা জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে আসামি করা হলেও পরে বাদ দেয়া হয় তাকে।