Published : 18 Jun 2013, 08:35 AM
তিন বছর আগে সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হওয়ার পর ক্যাম্পাস ছাড়ে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী এই ছাত্র সংগঠন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে নগরীতে বিভিন্ন ‘নাশকতামূলক’ কর্মকাণ্ড চালানোরও অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার নির্বাচনে মেয়র পদে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জয়ী হওয়ার পর রাতেই ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করে শিবির কর্মীরা। এরপর থেকে প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে তাদের তৎপরতা বাড়ছে।
শিবিরের একাধিক নেতা জানান, যে কোনো মূল্যে তারা আবার ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান গড়তে চান।
সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অনেক সহ্য করেছি। আর নয়। আমাদের অবস্থানে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে ছাড় দেয়া হবে না।”
মেয়র নির্বাচনে বুলবুলের জয়ে শিবিরের দলীয় অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইমন বলেন, “বুলবুল ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী। আমরা তার জন্য প্রচারও চালিয়েছি। তবে তার ফল আমরা ভোগ করতে চাই না।”
এদিকে সিটি নির্বাচনের ফলাফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। হলগুলোতে তাদের উপস্থিতি হঠাৎ করেই কমে যাওয়ায় শিবির কর্মীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ বিশ্বিবিদ্যালয় শাখার সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, “এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র পদে পরাজিত হওয়ার পর থেকে কর্মীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। প্রচারে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্লান্তিও আছে। তাই তারা অনেকে এখন ক্যাম্পাসে নেই।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, হঠাৎ করে শিবিরের ফিরে আসার বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের জানালে তারা শান্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সহায়তা চাইলেও ‘অজ্ঞাত কারণে’ তারা ক্যাম্পাসে শিবিরের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান মিলন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মেয়র নির্বাচনের পর থেকে প্রশাসনেও একটা স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এইভাবে তো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারি না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারে বসে থাকা যায় না।”
গত কয়েকদিন ধরে ইসলামী ছাত্র শিবির ক্যাম্পাসে ‘অস্থিতিশীল পরিবেশ’ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শনিবার মধ্যরাতে বুলবুলের জয়ের খবর প্রকাশের পর ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে তা উদযাপন করে বোমা ফাটিয়ে।
ওই রাতে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইমন তার ফেইসবুক পেইজে লেখেন, “প্রায় ৪ বছর পর পুলিশ মিছিলের পিছনে গাড়ি নিয়ে পাহারা দিয়ে সুন্দরভাবে মিছিল শেষ করতে সহযোগিতা করল। হায় রে পুলিশ রং বদলাতে সময় লাগে না, শুধু ক্ষমতা লাগে।”
রোববারও শিবিরের কয়েকশ’ নেতা-কর্মী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয়।
এদিকে নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে নেতারা বলছেন, ছাত্রশিবিরের এই তৎপরতার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শিবিরের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ কোনো ঐক্যেও তারা যাবেন না।
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক বলেন, “বুলবুল ভাই শিবিরের নেতা নন। তিনি আমাদের নেতা। কেউ যদি তার থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে চায় তাহলে তারা ভুল করছে।”
ইসলামী ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালে ছাত্রদল তার দায় নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ক্যাম্পাস পরিস্থিতি সম্পর্কে মতিহার থানার ওসি অসিত কুমার ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ফারুক হোসেন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। সেদিন আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় ছাত্রশিবির।
এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং ছাত্রলীগের অব্যাহত বাধার কারণে ক্যাম্পাসে শিবিরের তৎপরতা ছিল না বললেই চলে।