Published : 18 Jun 2013, 05:54 AM
সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে। ২০০৯ সালে ১২ মে ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ-মিছিলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা সিন্ডিকেট জারি করেছিল, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয় এই সভায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ২০০৯ সালের মে মাসে সিন্ডিকেট ওই বিধি-নিষেধ দেয়ার পর তা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে এরপরও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ হয়েছে।
“এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন।”
ক্যাম্পাসে কেউ যাতে সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ব্যানার-পোস্টার লাগানো, প্রচারপত্র প্রচার ও বিতরণ করতে না পারে এবং হলগুলোতে যেন বহিরাগতরা অবস্থান নিতে না পারে সেটি কঠোরভাবে তদারক করা হবে বলে ইলিয়াস হোসেন জানান।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে মহানগর পুলিশ কমিশনার এস এম মনির-উজ-জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন মাতিন, প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান ও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর পুলিশ কমিশনার এস এম মনির-উজ-জামানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের পাশ থেকে চার বহিরাগতকে আটক করে পুলিশ সদস্যরা। এরা হলেন- নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার জুয়েল রানা (১৬), ইসমাইল ইসলাম (১৮), পুঠিয়া উপজেলার অলি আহম্মদ (১৯) ও তারিকুল হাসান (২১)।
মতিহার থানার ওসি অসিত কুমার ঘোষ জানান, ওই চারজনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ কমিশনার এস এম মনির-উজ-জামান বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভাল।
প্রক্টর তারিকুল হাসান মিলন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে একপ্রকার উত্তেজনা চলছিল। সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরাও অনেকটা উৎকণ্ঠায় রয়েছে।”
সোমবার রাতে শহীদ শামসুজ্জোহা ও মাদার বকশ হলের সামনে দু’দফায় হাত বোমা ফাটানো হয়।
গত শনিবার নির্বাচনে মেয়র পদে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জয়ী হওয়ার পর রাতেই ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করে শিবির কর্মীরা। এরপর থেকে প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে তাদের তৎপরতা বাড়ছে। মধ্যরাতে বুলবুলের জয়ের খবর প্রকাশের পর ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে তা উদযাপন করে বোমা ফাটিয়ে।
শিবিরের একাধিক নেতা জানান, যে কোনো মূল্যে তারা আবার ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান গড়তে চান।
এদিকে সিটি নির্বাচনের ফলাফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। হলগুলোতে তাদের উপস্থিতি হঠাৎ করেই কমে যাওয়ায় শিবির কর্মীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ বিশ্বিবিদ্যালয় শাখার সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, “এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র পদে পরাজিত হওয়ার পর থেকে কর্মীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। প্রচারে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্লান্তিও আছে। তাই তারা অনেকে এখন ক্যাম্পাসে নেই।
সোমবারও শিবিরের প্রায় চার শতাধিক নেতা-কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা ছাত্র তাদের ক্লাসে এবং যারা বহিরাগত, তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন প্রক্টর।
এদিকে নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে নেতারা বলছেন, ছাত্রশিবিরের এই তৎপরতার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শিবিরের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ কোনো ঐক্যেও তারা যাবেন না।
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক বলেন, “বুলবুল ভাই শিবিরের নেতা নন। তিনি আমাদের নেতা। কেউ যদি তার থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে চায় তাহলে তারা ভুল করছে।”
ইসলামী ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালে ছাত্রদল তার দায় নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ক্যাম্পাস পরিস্থিতি সম্পর্কে মতিহার থানার ওসি অসিত কুমার ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ফারুক হোসেন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। সেদিন আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় ছাত্রশিবির।
এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং ছাত্রলীগের অব্যাহত বাধার কারণে ক্যাম্পাসে শিবিরের তৎপরতা ছিল না বললেই চলে।