Published : 19 May 2013, 03:27 PM

মামলায় ৯ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় ফকিরহাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মিজানুর রহমান এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার নিয়ামত হোসেন- এ তিন জনকে ‘হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন জাহিদের স্ত্রী।
এছাড়াও শাহীন, ইমরুল (মিজানের ভাই), রাণা, বাশার, জিল্লুর এবং আজাদের নামোল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাহিদ সম্পর্কে আমার মামা হয়। গত ইউপি নির্বাচনে তার সঙ্গে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন উল্লেখ করে হারুন বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম মামলার এজাহারে দেয়া হয়েছে।
ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান গত শনিবার সকালে রূপসার আমাদাবাদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।
শনিবার রাতেই খুলনার রূপসা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয় বলে জানান খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আব্দুল কাদের বেগ।
আটককৃতরা হলেন- বশির শেখ (৩০), বাবুল হাওলাদার (৩০), শাহজালাল (২৮), মো: সিরাজুল ইসলাম (৩৫), রানা হাওলাদার (২৭), আক্তারুজ্জামান (৩৩), ফিরোজ হাওলাদার (২৫), আমিন (৩৫), সুমন মোল্লা (৩০) ও সাইফুল শেখ (২৮)।
এদিকে চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দুটি চরমপন্থী সংগঠনের পাঠানো ক্ষুদেবার্তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
রূপসা থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান জানান, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পাটির্র (এম,এল-জনযুদ্ধ) ও পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এম-এল) চেয়ারম্যান জাহিদকে ‘শ্রেণিশত্রু’ আখ্যা দিয়ে হত্যার দাবি করেছে।
তবে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান ওসি।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাট-ঢাকা মহাসড়কে ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকি মোড়ে এবং বাগেরহাট-খুলনা সড়কে একই উপজেলার কাটাখালী মোড়ে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।
এ সময় ওই সড়ক দুটিতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
পরে বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনের সাংসদ শেখ হেলাল উদ্দিন ও বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এর আগে সকালে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শোক মিছিল করেছে ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ।
বিকেলে আওয়ামী লীগ একই দাবিতে বাগেরহাট শহরে শোক মিছিল করে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খান জাহিদ হাসান খুলনা মহানগরীর দোলখোলাস্থ ভাড়া বাসা থেকে ফকিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
রূপসা নদী পার হয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে এবং মোটরসাইকেলের চালক মুন্না শিকদারকে গুলি করে হত্যা করে।