প্রাণঘাতী ভাইরাস আক্রান্ত লিচুতে ৭ শিশুর মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় প্রাণঘাতী ভাইরাস আক্রান্ত লিচু খেয়ে ৭ শিশু মারা গেছে। লিচুগুলো পরীক্ষা করে অজ্ঞাত ওই ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক>>বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 June 2014, 09:11 AM
Updated : 11 June 2014, 09:11 AM

মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।

লিচু সিনড্রোম নামে পরিচিতি পাওয়া এই সংক্রমণ ভাইরাস আক্রান্ত লিচু খেলে হয়। এসব লিচু খাওয়ার পরপরই এগুলো মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে।

মারা যাওয়া ৭ শিশুর বয়স ২ থেকে ৪ বছর বলে জানা গেছে। লিচু খাওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে তাদের মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ও সুপারিনটেন্ডেন্ট এম এ রশিদ বলেছেন, “৩ থেকে ৭ জুনের মধ্যে সাত শিশু মারা যায়। ভাইরাসজনিত এই উপসর্গ শেষ ২০১২ সালে দেখা গিয়েছিল। এটি বিরল ধরনের একটি সংক্রমণ।”

চলতি বছর মালদায় ফলন ভালো হওয়ায় সম্প্রতি লিচুর মূল্য কমে গেছে। এতে লিচু বিক্রির হারও বেড়ে গেছে।

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পর দেখা গেছে, লিচু থেকে দেহে প্রবেশ করা ভাইরাস মাথায় চলে গিয়ে মস্তিষ্কে ক্ষরণ ঘটায়, এতে মাথা ফুলে যায়।

রশিদ জানান, লিচু খাওয়ার পরপর শিশুদের জ্বর হয় এবং তারা বমি করতে শুরু করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে হঠাৎ তাদের শরীরে খিঁচুনি হয় এবং পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এই লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

কলকাতার স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ’র কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিরল এই ভাইরাসটির উৎপত্তি চীনে হলেও গ্রীষ্মের সময় উত্তর ভারতের কোনো কোনো অংশে এর প্রকোপ দেখা গেছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এই সিনড্রোমটি এনসেফ্যালোপ্যাথি নামে পরিচিত। এনসেফ্যালোপ্যাথি বহু ধরনের হতে পারে এবং এতে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারাতে পারে এবং মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

২০১২ সালে এনসেফ্যালোপ্যাথির এ ধরনের একটি প্রকোপে ১শ’র বেশি শিশু মারা যায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক