দেশের ভালর জন্য জনসনের এখনই বিদায় নেওয়া উচিত: জন মেজর

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বলেছেন, নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী বাছাই না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী নেতা বরিস জনসনের ডাউনিং স্ট্রিটে থাকা উচিত নয়।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 July 2022, 04:26 PM
Updated : 7 July 2022, 04:26 PM

বৃহস্পতিবার জনসন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও এ পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি।

টোরি (কনজারভেটিভ) দল নতুন একজন উত্তরসূরি নির্বাচন না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি।

এরই প্রতিক্রিয়ায় সরকারি একটি চিঠিতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বলেন, “মন্ত্রিসভা, সরকার এবং পার্লামেন্টারি দলের সমর্থন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার প্রস্তাব (এই সময়কাল হতে পারে তিন মাস পর্যন্ত) বিচক্ষণ নয়। এই শাসনব্যবস্থা টেকসই না হওয়ার আশঙ্কা আছে।”

চিঠিটি কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতাদের ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এই কমিটিই নেতৃত্বের লড়াই পরিচালনা করবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়সীমা আগামী সপ্তাহে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জনসন।

জন মেজর ১৯৯০ সার থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, দেশের নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী বাছাই না হওয়া পর্যন্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী ডমিনিক রাব দায়িত্বভার নিতে পারেন। অথবা দল তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে, যাতে এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।

নেতৃত্ব থেকে জনসনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় রাজনীতিবিদদের একে জনের কাছ থেকে একেক রকম প্রতিক্রিয়া এসেছে।

বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা কির স্টারমার জনসনের ঘোষণাকে দেশের জন্য সুসংবাদ বলেছেন। তবে এটি আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ওদিকে, কনজারভেটিভ দলের উপ চেয়ারম্যান জাস্টিন টমলিসন বলেছেন, ‘জনসনের পদত্যাগ অনিবার্য ছিল। এখন দল হিসাবে আমাদেরকে দ্রুত এক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোনিবেশ করতে হবে।’

স্কটল্যান্ডের মন্ত্রী অ্যালিস্টার জ্যাক অবশ্য জনসনের সরে যাওয়া নিয়ে দুঃখ করেছেন। ব্রেক্সিটে জনসনের সফলতাসহ দেশের শক্তিমত্তা ধরে রাখতে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের খুব শিগগিরই একজন সম্ভাবনাময় নতুন নেতা দরকার। এমন একজন, যিনি আস্থা গড়ে তুলতে পারবেন, দেশকে ভগ্নদশা থেকে টেনে তুলতে পারবেন এবং অর্থবহ একটি অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে এগুতে পারবেন।

আরও অনেকেই জনসনের সরে যাওয়াকে স্বস্তিদায়ক বলেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত শোভন কাজটিই করেছেন। এখন রানির কাছে ক্ষমা চেয়ে জনসনের উচিত বিদায় নেওয়া এবং রানিকে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ করতে দেওয়া, যাতে কনজারভেটিভ পার্টি ঠিকমত নতুন নেতা বেছে নিতে পারে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক