জ্বালানি কিনতে পুতিনের সাহায্য চান শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার ‘দেউলিয়া’ হয়ে যাওয়া দেশকে জ্বালানি আমদানি করতে সাহায্য করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 July 2022, 05:16 AM
Updated : 7 July 2022, 05:48 AM

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকেট পড়া শ্রীলঙ্কার এখন বৈদেশিক রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। তাই দেশটি খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির মত অতি জরুরি আমদানি প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

এ নিয়ে অসন্তুষ্ট শত শত লোক বুধবার রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

এ পরি্স্থিতিতে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে তার একটি ‘অত্যন্ত ফলদায়ক’ আলোচনা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা শিগগিরই পেট্রল শূন্য হয়ে যেতে পারে, রোববার দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী এমন সতর্কতা জানানোর পর এ পদক্ষেপের কথা জানালেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

পুতিনের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে রাজাপাকসে এক টুইটে বলেন, “বাকিতে জ্বালানি আমদানি করার সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ করেছি আমি।”

রাজাপাকসে আরও জানান, তিনি মস্কো ও কলম্বোর মধ্যে ফ্লাইট ফের চালু করার জন্য ‘বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন’। 

দেয় অর্থ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত রাশিয়ার পতাকাবাহী এয়ারোফ্লোতের একটি উড়োজাহাজ আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। উড়োজাহাজটি অল্প সময়ের জন্য আটকে রাখা হলেও এ ঘটনার জেরে এয়ারোফ্লোত তাদের মস্কো-কলম্বো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়।

“আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করতে সর্বাগ্রে পর্যটন, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে বলে আমরা সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছিল,” বলেছেন রাজাপাকসে। 

বিবিসি জানিয়েছে, সংকট চলাকালেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে শ্রীলঙ্কা আর সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশটি থেকে আরও আমদানি করবে তারা।

৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে রাজাপাকসে ভারত ও চীন থেকে আর্থিক সহায়তা নিলেও জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। 

রোববার শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা বিজেসেকেরা জানান, দেশটিতে পেট্রলের যে মজুদ আছে তাতে নিয়মিত চাহিদা মেটাতে গেলে পুরোপুরি একদিনও চলবে না। 

হ্রাস পেতে থাকা জ্বালানি মজুদ ধরে রাখার চেষ্টায় গত সপ্তাহে অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন গাড়ির জন্য পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখে দেশটির কর্তৃপক্ষ।  

বুধবার সরকারবিরোধী শত শত আন্দোলনকারী কলম্বোর পার্লামেন্ট ভবনের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। রাজাপাকসে সরকারকে সরাতে তারা ‘চূড়ান্ত ধাক্কা’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক