মর্গেও গুলিবিদ্ধ কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃতদেহে হাতকড়া পরানো ছিল

ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জেল্যান্ড ওয়াকারের মৃতদেহ মর্গে নিয়ে যায় তখনও তার হাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরানো ছিল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 July 2022, 06:24 PM
Updated : 7 July 2022, 03:22 AM

ওয়াকারের সুরতহাল প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা আছে বলে জানায় সিএনএন। সুরতহাল প্রতিবেদন সিএনএন দেখেছে।

গত সপ্তাহে ওহাইওর অকরনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ওয়াকার। 

সিএনএন জানায়, সামিট কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে থাকা ওয়াকারের সুরতহাল প্রতিবেদনে যেসব ছবি রাখা আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ওয়াকারকে যখন সেখানে নেওয়া হয় তখন তিনি মৃত এবং তার হাতে হাতকড়া পরানো।

ছবি দেখে এটাও বোঝা যাচ্ছে তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তার রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টার প্রমাণ ছবিতে আছে। এছাড়া তার শরীরে এবং শরীরের পাশে ব্যান্ডেজ পড়ে আছে।

সিএনএন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সুরতহাল প্রতিবেদন দেখার আবেদন করা হলে তাদের সেই অনুমতি দেয়া হয়। তবে সেটির অনুলিপি তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ওয়াকারের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ওহাইওর ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওয়াকারের মৃত্যুতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি আছে কিনা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন তা তদন্ত করে দেখছে।

গত ২৭ জুন খুব ভোরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ওয়াকার। পুলিশের ভাষ্য, তারা রাস্তায় ওয়াকারকে গাড়ি থামাতে বলেছিল। কিন্তু সে তা অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে তার গাড়ি ১৮ মিনিট ধরে ধাওয়া করে। এরপর সে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশও তাকে অনুসরণ করে।

পুলিশের দাবি, ওয়াকার তার কোমরে হাত দিতে যায়। “আমাদের মনে হয়েছিল ওয়াকার ঘুরেছেন, দেখছেন এবং ফায়ারিং পজিশনের মধ্যে থেকে নড়াচড়া করছেন।”আট পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াকারকে গুলি করে। তার শরীরে ৬০টির বেশি গুলি বিদ্ধ হয়।

ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে যখন ওয়াকারের মৃতদেহের ছবি নেওয়া হয় তখন সেটি একটি বডি ব্যাগের ভেতর এবং পরে ময়নাতদন্তের টেবিলের উপর ছিল। তার শরীরের উভয় দিকে পায়ের গোড়ালি থেকে গাল পর্যন্ত অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল।

পুলিশ যা বলছে:

ওয়াকারকে হত্যার ঘটনায় গত রোববার পুলিশ তাদের বডি ক্যামেরার ১৩টি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

আকরন পুলিশ প্রধান স্টেফেন মাইলেট সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, যখন ওয়াকারকে গুলি করে হত্যা করা হয় তখন সে নিরস্ত্র ছিল। তবে ঘটনার পর তার গাড়িতে একটি অস্ত্র পাওয়া গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, পুলিশের গাড়ি যখন ওয়াকারের গাড়িকে ধাওয়া করছিল তখন সে গাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল।

পুলিশ যে ভিডিও প্রকাশ করেছে সেটিতে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া শুরুর ৪০ সেকেন্ড পর ‘গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়’। ট্রাফিক ক্যামেরার ছবিতেও ওয়াকারের গাড়ির যেদিকে চালক বসেন সেদিক থেকে ‘আলোর ঝলক দেখা গেছে’।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘‘ওই গুলিই পুরো পরিস্থিতির চরিত্র পাল্টে দিয়েছে। নিয়মিত তল্লাশির জন্য গাড়ি থামানোর সাধারণ একটি ঘটনা জনগণের নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়।”

এরপর পুলিশের গাড়ি ওয়াকারের গাড়িকে ধাওয়া করে, একসময় ওয়াকারের গাড়ির গতি কমে যায় এবং সে গাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড় দেয়। পুলিশও গাড়ি থেকে নেমে তাকে অনুসরণ করে। পুলিশ টেজার গানের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তাকে থামাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।

কিছুক্ষণ পর ওয়াকার থেমে যায় এবং পুলিশের দিকে ঘুরতে শুরু করে তখন আট পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করে।

রোববার মাইলেট আরো বলেন, আট পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ওয়াকারের পরিবারের আইনজীবী মঙ্গলবার বলেন, পুলিশের বডি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘এমন উন্মাদ, পাগলের মত একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে দেখা খুবই বিপর্যয়কর।”

ওয়াকার হত্যার প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও রাতে তা সংঘাতের রূপ নিয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক