নেটোতে যোগ দিতে চুক্তি সই করল ফিনল্যান্ড-সুইডেন

নেটোতে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ সদস্য রাষ্ট্রের চুক্তি (অ্যাকসেশন প্রটোকল) সই করেছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন।

>>রয়টার্স
Published : 5 July 2022, 03:43 PM
Updated : 5 July 2022, 03:43 PM

মঙ্গলবার এই প্রটোকল সই হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সদস্যপদ পেতে সব সদস্য রাষ্ট্রের পার্লামেন্টের অনুমোদন এখনও প্রয়োজন এবং এ প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছরের মত লেগে যাবে।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের নেটোতে যোগ দেওয়া নিয়ে একমাত্র আপত্তি ছিল তুরস্কের। আঙ্কারার অভিযোগ ছিল, নর্ডিক ওই দুই দেশ ‘সন্ত্রাসবাদ কে মদদ’ দেয়।

গত সপ্তাহে মাদ্রিদে নেটোর সম্মেলনে তুরস্কের সঙ্গে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের এ নিয়ে আলোচনা হয়।

এরপর দেশ দু’টি ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা গ্রহণের’ প্রতিশ্রুতি দিলে তুরস্ক আপত্তি তুলে নেয় এবং তিন দেশ মিলে একটি চুক্তি সই করে।

চুক্তি (অ্যাকসেশন প্রটোকল) সইয়ের পর ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে নেটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘‘এটি সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

‘‘টেবিলের চারপাশে ৩২ দেশকে নিয়ে আমরা আগের থেকে আরও শক্তিশালী হয়েছি।”

মঙ্গলবার প্রটোকল সইয়ের ফলে হেলসিংকি ও স্টকহোম এখন নেটোর বৈঠক অংশ নিতে পারবে এবং সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পাবে।

কিন্তু তারা এখনই নেটোর প্রতিরক্ষা বলয়ের অংশ হবে না। নেটোর ‘ডিফেন্স ক্লজ’ অনুযায়ী, নেটোর সদস্য কোনও একটি দেশে আক্রমণ করার অর্থ সব সদস্যকে আক্রমণ করা এবং সবাই মিলে তা প্রতিহত করবে।

প্রতিরক্ষা বলয়ের অংশ হতে হলে নেটোর সব সদস্য রাষ্ট্রের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে হবে।

এর আগে ১৯৯৭ সালে একইভাবে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র কে সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেটো তার পূর্বাংশের বিস্তার ঘটিয়েছিল। যেটিকে পশ্চিমারা তাদের অর্জন বলে মনে করলেও ক্ষুব্ধ হয়েছিল রাশিয়া।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের নেটোর সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা এবং দেশদুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার আহ্বান জানানো নিয়েও বার বার হুঁশিয়ার করেছে মস্কো।

গত ১২ মার্চ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিল, এটির ‘গুরুতর সামরিক ও রাজনৈতিক পরিণতি দেখা যাবে’।

মহাসচিব স্টলটেনবার্গ নেটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত নর্ডিক ওই দুই দেশকে অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই সময়ে তাদের নেটো থেকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘ফিনল্যান্ড ও সুইডেন আমাদের জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়ার সময়েও।”

‘‘অনেক মিত্র এরইমধ্যে পরিষ্কারভাবে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ওই অঞ্চলে নেটো নিজেদের উপস্থিতি বাড়াবে, সামরিক মহড়াও আরো বাড়বে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক