কাতার থেকে অনুদান নেওয়ার অভিযোগ, বিতর্কে প্রিন্স চার্লস

যুক্তরাজ্যের প্রিন্স চার্লস তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য কাতারের ধনকুবের এক শেখ রাজনীতিবিদের কাছ থেকে স্যুটকেস ভর্তি নগদ ১০ লাখ ইউরো অনুদান নিয়েছিলেন- এমন অভিযোগের মুখে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 June 2022, 02:28 PM
Updated : 26 June 2022, 02:28 PM

আর কেবল এই ১০ লাখ ইউরোই নয়, আরও দুইবার তিনি অনুদান নেন। সব মিলিয়ে চার্লস অনুদান পেয়েছিলেন মোট ৩০ লাখ ইউরো। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চার্লস এই অর্থ নেন।

ব্যক্তিগতভাবে চার্লসকে এই অনুদান দিয়েছিলেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জাবর আল থানি। এমনটাই দাবি করা হয়েছে ‘দ্য সানডে টাইমস’ পত্রিকার রোববারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

লন্ডনে প্রিন্স চার্লসের রাজকীয় বাসভবন ক্লিয়ারেন্স হাউজ বলছে, ওই সমস্ত অনুদান তাৎক্ষণিকভাবেই সরাসরি চার্লসের দাতব্য ফাউন্ডেশন ‘প্রিন্স ওয়েলস’স চ্যারিটেবল ফান্ড’ (পিব্লিউসিএফ)- এর একাউন্টে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সব নিয়ম কানুন মেনেই তা করা হয়েছে।

অনুদান দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে চার্লস এবং জসিম আল-থানি অবৈধ কিছু করেছিলেন বলে শোনা যায়নি। চার্লস অনুদানের বিনিময়ে কোনও প্রস্তাবও দেননি।

হিসাবরক্ষকরা বলছেন, সৎ উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ নেওয়া বৈধ অনুদান হিসাবেই বিবেচিত। কিন্তু বর্তমান রাজকীয় উপঢৌকন নীতি অনুযায়ী, রাজপরিবারের সদস্যরা কখনওই ‘নগদ অর্র্থ’ নিতে পারেন না, বরং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ‘চেক’ নিতে পারেন।

অথচ প্রিন্স চার্লস একজন বিদেশি ধনকুবেরের কাছ থেকে স্যুটকেস ভরে নগদ লাখ লাখ ইউরো নিয়েছেন। বিতর্ক উস্কে দিয়েছে সেটিই। চালর্স তার বিচার-বিবেচনাবোধ এবং বিচক্ষণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।

প্রিন্স চার্লস রাজকীয় সম্মাননার বিনিময়ে ঘুষ নিতেন- এমন অভিযাগে সম্প্রতি তদন্ত শুরুর মুখে তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই কাতারের কাছ থেকে চার্লসের বড় অঙ্কের অনুদান নেওয়ার এই ঘটনা সামনে এল।

তাছাড়া, কাতারের শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জাবর আল থানি নিজেও একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে কাতার থেকে সিরিয়ার আল কায়েদা শাখাকে অর্থ দেওয়া হত বলে ধারণা করা হয়। থানি নিজেও এমন সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছিলেন।

শেখ হামাদ বিন জসিম ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে অনেক আগে থেকেই সমালোচনা হয়ে আসছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক