গাজায় যুদ্ধ থামল, জিতল কে?
নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 25 May 2021 12:02 AM BdST Updated: 25 May 2021 01:29 AM BdST
-
যুদ্ধবিরতির পর গাজায় উল্লসিত ফিলিস্তিনিদের মুখে ছিল বিজয় ধ্বনি। ছবি: রয়টার্স
-
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
-
গাজার খান ইউনিস শহরে ৯ হামাজ যোদ্ধার জানাজায় অংশ নেয় হাজারো ফিলিস্তিনি। ছবি: রয়টার্স
-
গাজায় সশস্ত্র হামাস যোদ্ধারা। ছবি: রয়টার্স
-
-
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা থেকে ছোড়া রকেট। ছবি: রয়টার্স
-
গাজা সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ। ছবি: রয়টার্স
-
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের ঘর। ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যেন স্বস্তি আনল ফিলিস্তিনের গাজায়। বাইরে থাকলে মরার শঙ্কা বেশি, তাই ভয়ে যারা ঘরের ভেতরে সিঁটিয়ে ছিলেন, তারা ধীরে ধীরে বের হচ্ছিলেন। ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতি কতটা হয়েছে তা দেখতে, পাড়া-প্রতিবেশীদের খবর নিতে।
ইসরায়েলি গোলায় ধসে পড়া টাওয়ার ইট-পাথরের স্তূপ জমিয়েছে সড়কে; কৌতূহলী মানুষগুলো সেখানে থামে। কয়েকটি স্থানে সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে ধসে পড়া কনক্রিটের ব্লকে। সেগুলো সরাতে বুলডোজারগুলো অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
এই ধ্বংসচিত্র নতুন নয় গাজাবাসীর কাছে। এসব তারা টেলিভিশনের পর্দায়ই গত কয়েকদিন ধরে দেখেছে। কিন্তু মানুষের মন! নিজের চোখে না দেখলেই যেন নয়!
গাজার একটি শহর খান ইউনিস; সেখানে নয়জন হামাস যোদ্ধার দাফন হচ্ছিল। গাজা সীমান্তের আলোচিত টানেল বা কৃত্রিম সুড়ঙ্গগুলোতে তারা ছিলেন। আর সেই টানেলগুলো ছিল ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু।
ইসরায়েলের মন্ত্রী আর সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সন্ত্রাসের’ অবকাঠামো তারা ভালোভাবেই গুঁড়িয়ে দিতে পেরেছেন, যেগুলো ছিল মূলত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দল হামাসের।
গাজায় বিধ্বস্ত ভবনের সামনে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে এক শিশু। ছবি: রয়টার্স
ভবন ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা চোখেই দেখা যায়। হামাসের সামরিক স্থাপনায় ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা দেখার সুযোগ নেই। তবে বলাবলি হচ্ছিল, মাটির নিচে টানেলগুলো নিরাপদই ভাবত হামাস, কিন্তু সেখানেও নিজেদের সদস্যদের মারা পড়তে দেখে দলটির নেতারা খুব অবাক হয়েছেন।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সমর্থকদের মনোবলও গাজার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১১ দিনের যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, এটা কমেনি, বেড়েছেই বলা যায়।
ইসরায়েলি অভিযানে নিহতদের দাফন-কাফনে অনেকটাই থমকে আছে গাজা। লাশগুলো ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো। ময়দানে জানাজা শেষে যখন গোরস্তানে দাফনের জন্য নেওয়া হচ্ছিল লাশ, তখন স্লোগান চলছিল।
গাজার খান ইউনিস শহরে ৯ হামাজ যোদ্ধার জানাজায় অংশ নেয় হাজারো ফিলিস্তিনি। ছবি: রয়টার্স
কতটা ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো গেছে- ইসরায়েল যখন তার হিসাব কষছিল; তখন হামাস বলছিল, বিজয় তাদেরই, কারণ গাজায় তাদের নেতাদের কিচ্ছু করতে পারেনি ইসরায়েল।
১১ দিনের এই যুদ্ধে অনবরত বিমান হামলার পাশাপাশি সীমান্তে কামান বসিয়ে গোলাবর্ষণও করেছিল ইসরায়েল, যাতে নারী ও শিশুসহ ২৩২ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা।
যুদ্ধে ১২ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর এসেছে তেল আবিব থেকে। ১১ দিন পর গত ২১ মে মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ।
গাজায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হল ইসরায়েল-হামাস
যুদ্ধবিরতি: গাজাজুড়ে ‘সতর্ক’ উচ্ছ্বাস
এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লাভবান হওয়ার দিকটি নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারে হামাস।
ইসরায়েলের দুই প্রান্তে ফিলিস্তিনিদের দুই অংশ- গাজা আর পশ্চিম তীর। মাঝে ইসরায়েলের মধ্যে জেরুজালেম। প্রাচীন এই নগরীর পূর্ব অংশ আরব প্রধান। সেখানেই আল আকসা মসজিদ। আর পশ্চিম অংশ ইহুদি প্রধান।
হামাসের স্লোগান এখন গাজার ৬০ কিলোমিটার দূরে জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেও উঠছে। দৃশ্যত হামাস ফিলিস্তিনিদের কাছে এটা প্রমাণ করতে পেরেছে, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আর জেরুজালেমের জন্য জীবন দিতেও তারা তৈরি।
গাজা সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ। ছবি: রয়টার্স
ফলে এতদিন শুধু গাজার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে থাকলেও এখন ইসরায়েল অধিকৃত জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও তাদের বলয় তৈরি হওয়ার পথ খুলেছে।
স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের মুখপাত্র হিসেবে এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হচ্ছেন তাদের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা-পিএলওর প্রধান তিনি। তাদের মূল কর্মকাণ্ড পশ্চিম তীরকেন্দ্রিক।
কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এখন মাহমুদ আব্বাসের সরকারের কর্মকাণ্ডে খুবই অসন্তুষ্ট। এই মে মাসে ফিলিস্তিনে ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মাহমুদ আব্বাস তা বাতিল করেছেন। বলাবলি হচ্ছে, হেরে যাওয়ার ভয়েই তিনি একাজ করেছেন। ২০০৬ সালের ভোটে মাহমুদ আব্বাস জয়ী হওয়ার পর আর ভোট হয়নি ফিলিস্তিনে।
প্রতিটি ফিলিস্তিনির স্বপ্নের রাষ্ট্রের রাজধানী জেরুজালেম হলেও শহরটিকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করে বসেছে ইসরায়েল।
গাজায় সশস্ত্র হামাস যোদ্ধারা। ছবি: রয়টার্স
আর এক্ষেত্রে মাহমুদ আব্বাসের অবস্থানকে নমনীয় মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। বিপরীতে হামাস দেখিয়ে দিতে চাচ্ছে, জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনে আনতে, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন ঠেকাতে তারা জানবাজি রেখে লড়তে তৈরি আছে।
এ তো গেল ফিলিস্তিনের কথা। অন্যদিকে ১১ দিনের যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এখন আবার তার প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে নামতে হচ্ছে।
দুর্নীতির যে গুরুতর অভিযোগ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উঠেছে, সেজন্য তাকে আগের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের মতো কারাগারেও যেতে হতে পারে।
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা থেকে ছোড়া রকেট। ছবি: রয়টার্স
গত ১০ মে যেদিন হামাস জোরদার রকেট হামলা শুরু করেছিল, সেদিন নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রিত্ব যায় যায় অবস্থায় ছিল। যুদ্ধ তাকে টিকিয়ে দিয়েছে।
দুই বছরে চতুর্থ নির্বাচনের পর তিনি এখন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে রয়েছেন। যুদ্ধের আগে এক মাসের চেষ্টায়ও তিনি একটি জোট গঠন করে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেসেটে (পার্লামেন্ট) দেখাতে পারেননি।
তার প্রধান প্রতিপক্ষ ইয়াইর লাপিদ এখনও দিন গুণছেন প্রধানমন্ত্রীর আসন নিতে। তিনি দাবি করে আসছিলেন, সরকার গঠনের মতো ৬১ ভোট তিনি পার্লামেন্টে দেখাতে পারবেন।
কিন্তু লাপিদের সেই আশার গুঁড়ে বালি দিয়েছে এই যুদ্ধ। এখনও তার আশা টিকে আছে, তা না হলে আরেকটি নির্বাচনের দিকে যেতে হবে ইসরায়েলকে।
জেরুজালেমে সংখ্যাগুরু ইহুদি এবং সংখ্যালঘু আরবদের সহাবস্থানের ভিত নড়ে যাওয়ার বিষয়টিও ইসরায়েলকে চিন্তা করতে হচ্ছে। ২০ শতাংশের মতো আরবের বাস ইসরায়েলে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
নেতানিয়াহুর বিভাজনের উসকানি এবং ইহুদি জাতীয়তাবাদী কট্টর অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
আগের বারের মতোই ইসরায়েল-হামাসের এই যুদ্ধবিরতি দাড়ি নয়, একটি কমা মাত্র। সমস্যার সমাধান কিন্তু হয়নি। কোনো একটি সঙ্কট না আসা পর্যন্ত এটি স্থায়ী হতে পারে। হতে পারে গাজা থেকে একটি রকেট নিক্ষেপ হওয়া পর্যন্ত, হতে পারে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের উপর পুলিশের একটি হামলা পর্যন্ত। অথবা হতে পারে শেখ জারাহ থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তুলতে ইসরায়েলি দখলদারদের একটি মামলা পর্যন্ত।
পূর্ব জেরুজালেমের এই শেখ জারাহ থেকে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের উৎখাতের পরিকল্পনাই সাত বছর পর গাজায় ফের যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছিল।
[ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বাওয়েনের বিশ্লেষণ]
-
লাটভিয়া-বেলারুশ পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার
-
গাজায় যুদ্ধ থামল, জিতল কে?
-
উড়োজাহাজ ভাড়া করে আকাশে বিয়ে
-
৬০ সেকেন্ডেই জানা যাবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কিনা
-
লন্ডনের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন কর্মী মাথায় গুলিবিদ্ধ
-
বেলারুশের আকাশসীমা বর্জনের কথা ভাবছে ইইউ
-
কোভিড-১৯: ভারতে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়াল
-
পার্লামেন্টে তালা, বাইরেই শপথ নিলেন সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
- আমি তো পোলার্ড বা রাসেল নই: মুশফিক
- মধ্য আকাশে বেলারুশের সাংবাদিক যখন বুঝলেন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে
- মুকুট হারাল পিএসজি
- লিটনকে ওপেনিংয়ে চান না বিসিবি সভাপতি
- ৩৩৩ নম্বরে ফোন করায় ‘ভুল’ দণ্ড: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ফরিদ
- লঘুচাপ পরিণত নিম্নচাপে, বৃষ্টির আভাস
- বিতর্কিত বক্তা আমির হামজা গ্রেপ্তার
- মাহির সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে: অপু
- সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’, বেড়েছে সংকেত
- শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চারে বাংলাদেশ





