সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের ‘প্রতিশ্রুতি আছে উত্তর কোরিয়ার’

উত্তর কোরিয়া তাদের সব পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন বিগেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2019, 07:29 AM
Updated : 1 Feb 2019, 07:33 AM

অক্টোবরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেওর পিয়ংইয়ং সফরে তারা এ প্রতিশ্রুতি দেয়, বলেছেন তিনি।

বিগেন এ সংক্রান্ত যে কোনো চুক্তির আগে উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ও স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন, জানিয়েছে বিবিসি।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণে মার্কিন এ দূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চান।

“আমরা উত্তর কোরিয়া দখল করতে যাচ্ছি না। আমরা তাদের শাসনকাঠামোরও পরিবর্তন করতে চাচ্ছি না,” বলেন পাঁচ মাস আগে এ বিশেষ দূতের দায়িত্ব পাওয়া বিগেন।

তিনি জানান, পম্পেওর সঙ্গে আলোচনার উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উন তাদের সব প্লুটোনিয়াম ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ধ্বংস ও ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

উত্তর কোরিয়াকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে এবং নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিগেন।

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় কখনোই দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ আসেনি বলেও জানিয়েছেন এ মার্কিন দূত।

কিম কখনোই তার পারমাণবিক অস্ত্র পুরোপুরি ত্যাগ করবেন না, মঙ্গলবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানরা এ ধরনের আশঙ্কার কথা জানানোর দুইদিন পর বিগেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উন্মোচন করলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গোয়েন্দাপ্রধানদের ওই মূল্যায়নের কড়া সমালোচনা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও; যিনি ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সম্পর্কের ‘অসাধারণ উন্নতি’ হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন।

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে কিম-ট্রাম্প ঐতিহাসিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়া আর ‘পারমাণবিক হুমকি’ নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শিগগিরই কিমের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখ ও স্থান জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক