রাখাইনে নিহত ৮৯, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা সু চির

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নতুন করে শুরু হওয়ার সহিংসতায় ৮৯ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর হয়েছে।

>>রয়টার্স
Published : 26 August 2017, 10:09 AM
Updated : 26 August 2017, 10:49 AM

শনিবার অন্তত একটি নতুন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

শুক্রবার রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্টে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। নিহতদের মধ্যে ৭৭ জন বিদ্রোহী এবং ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) হামলার দায় স্বীকার করে নিজেদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক বাহিনী বলে দাবি করেছে।

শুক্রবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সু চি ‘রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা’ জানান।

বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করতে চাই, যারা অসীম সাহসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছেন।”

দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং রোহিঙ্গা নয় এমন শত শত গ্রামবাসীকে সরিয়ে এনে সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ও পুলিশের প্রধান স্টেশনে রেখেছে।

রাখাইনে মোতায়েন দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “আরো কিছু লোককে হেলিকপ্টার যোগে এবং বাকীদের নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নিয়ে যাবে।” 

সামরিক বাহিনীর সূত্রগুলো ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মংডু শহরের কয়েক কিলোমিটার পূর্বে ও দক্ষিণে প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা মায়ো থু জি ও নায়াং চু-তে দুপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই হয়েছে। 

টেলিফোনে মংডু শহরের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি গোলাবর্ষণের মতো শব্দ শুনেছেন যেগুলো মায়ো থু জি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছিল।

দমন অভিযানে ভয়ে শুক্রবার কক্সবাজারে সীমান্তের নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় হাজারো রোহিঙ্গা

“নিরাপত্তা বাহিনী ও মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াই শুরু হওয়ার পর ওই এলাকার দিকে প্রচুর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়ি গিয়েছে,” বলেন তিনি।   

এআরএসএ-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে মিয়ানমার। এক সময়ে ‘হারাকা আল-ইয়াকিন’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীটিই গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হটিন কিয়াওয়ের দপ্তর ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইং ‘আরো নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার নিয়ে’ আলোচনা করেছে।

মংডুর রোহিঙ্গা বাসিন্দা কোরি মোল্লা জানিয়েছেন, তারা ঘরে থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না কারণ শহরের পরিস্থিতি উত্তেজনায় স্তব্ধ হয়ে আছে।

“রাস্তাগুলো খালি। স্কুল, দোকান ও মার্কেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না,” বলেন তিনি।

মংডু থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে তামান থার গ্রামের রাখাইন বৌদ্ধ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকাটির প্রায় ৫০০ জন অমুসলিম বাসিন্দা শুক্রবার রাতটি একটি মঠে আশ্রয় নিয়ে পার করেছে।

গ্রামটির পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দা মং থিন হ্লা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, “আমাদের গ্রামের কাছে সামরিক বাহিনীর টহল দল আসায় ওই রাতে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।”

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্তবর্তী নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টায় আছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক