Published : 03 Jun 2026, 05:15 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার এ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন এআই মডেল মূল্যায়নের জন্য বিশেষ এক পরিকাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
এ আদেশের মাধ্যমে ‘অফিস অফ দ্য ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টর’কে নতুন এক কার্যপ্রক্রিয়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট। এ বিভাগটি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেয়।
নতুন এ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ‘ক্লড মিথোস’-এর মতো এআই সিস্টেমের মাধ্যমে সফটওয়্যারে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়লে সেসব তথ্য যেন মার্কিন সরকার দ্রুত অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
ব্যাংক, স্থানীয় ইউটিলিটি, যেমন বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ কেন্দ্র ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারীদের কাছে এ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। এ পুরো কাজটি হবে বিভিন্ন এআই মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই।
এর আগে, ২১ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ আদেশটি ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। তবে এক্সিওস-এর তথ্য অনুসারে, প্রযুক্তি শিল্প থেকে আসা চাপের কারণে হোয়াইট হাউস এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দিয়েছে।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেছেন, তার মূল আদেশের ‘কিছু বিষয় পছন্দ হয়নি’।
পলিটিকো’র প্রতিবেদন অনুসারে, হোয়াইট হাউসের ছোট ও উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আগের চেয়ে কিছুটা শিথিল বা সীমিত আকারের নতুন এক আদেশের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরিত এ নতুন নির্দেশনায় কিছু এআই কোম্পানিকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বিভিন্ন মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ৩০ দিন আগে সরকারের কাছে স্বেচ্ছামূলক পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগের খসড়ায় সরকারকে মডেল পর্যালোচনার জন্য ৯০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে এ ঘোষণার আগে, প্রযুক্তি শিল্পের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ওই সময়সীমা কমিয়ে কেবল ১৪ দিন করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
এ ঘোষণার আগে ‘সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সমির জৈন বলেছেন, “আমি মনে করি পরীক্ষার এ ধারণাটি, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সেবাদাতাদের জন্য বিভিন্ন সক্ষমতা ব্যাপকহারে সহজলভ্য হওয়ার আগেই নানা দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সংশোধনের ক্ষেত্রে বেশ যৌক্তিক।”
চূড়ান্ত নির্বাহী আদেশটি না দেখলেও জৈন ওই সময় আদেশটিকে ‘অস্বচ্ছ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আদেশটি বেঞ্চমার্কিং প্রক্রিয়ার বিষয়ে জনগণকে খুব একটা স্পষ্ট ধারণা দেয় না।
“আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি চাই না, যেখানে যে কোনো প্রশাসন এসব এআই মডেল কীভাবে, কখন ও আদৌ প্রকাশ করা হবে কিনা তা নির্ধারণে একচ্ছত্র বা স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বা আদর্শিক কারণে একটি মডেলকে অবরুদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে।”
“একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এ ধরনের সম্ভাবনার পথ তৈরি করে দেয়।”
আগে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে শেষ পর্যন্ত এআই শিল্পকে কিছুটা হলেও নিয়মের মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তার আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন।