বানরের সেলফি! মালিকানা কার?

সাধারণত যার ছবি তিনিই পান সেলফি’র স্বত্ব। সেলফি বাদে অন্য ছবির বেলায় স্বত্ব পান আলোকচিত্রী। কিন্তু এটিতো মানুষের জন্য প্রযোজ্য। বনের বানর যদি সেলফি তোলে সেক্ষেত্রে কী হবে? সেই সেলফির স্বত্ব কে পাবে, বানর নাকি ক্যামেরার মালিক? এই নিয়ে শুরু হয়েছে ধুন্দুমার কাণ্ড।

আজরাফ আল মূতীবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 August 2014, 02:10 PM
Updated : 7 August 2014, 02:10 PM

মার্কিন দৈনিক পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১১ সালে তোলা একটি সেলফির স্বত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর এ নিয়ে নিজস্ব মতামতও জানিয়ে দিয়েছে অনলাইনে সার্বজনীন তথ্যের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত উইকিমিডিয়া কমনস। অলাভজনক সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের ছবির স্বত্ব বানর বা আলোকচিত্রী কেউই পাবেন না।

সম্পূর্ণ বিষয়টি হাস্যকর শোনালেও, এর সঙ্গে জটিল কিছু আইনী বিষয় জড়িত। ব্রিটিশ আলোকচিত্রী ডেভিড স্লেটারের ক্যামেরার মাধ্যমে বানরের ওই সেলফির সূত্রপাত। তিনি দাবি করছেন, এই সেলফির স্বত্ব তার। আর ওই ছবি ওয়েবসাইটে দেওয়ায় তার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

“যদি এটি কোনো সাধারণ ছবিও হতো আর যদি আমি নিজেই ছবিটি তোলার কৃতিত্ব দাবী করতাম তাহলেও আমি এখনকার তুলনায় হয়তো আরও ধনী থাকতাম।”

সেলফিটি উইকিমিডিয়া সাইটে আপলোড করার পর, ২০১২ সালের শুরুর দিকে স্লেটার অফিশিয়ালি উইকিমিডিয়াকে ছবিটি সড়িয়ে ফেলার অনুরোধ জানান। ছবিটি তখন স্লেটারের অনুরোধে মুছে ফেলা হলেও, পরে অন্য এক ব্যবহারকারী আবারও ছবিটি সাইটে যোগ করেন। তারপর থেকে ছবিটি উইকিমিডিয়াতেই রয়েছে।

বুধবারে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নিজদের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উইকিমিডিয়া কমেন্স থেকে সেলফিটি মুছে ফেলার ব্যাপারে তারা স্লেটারের অনুরোধ রাখেননি।

এক সাক্ষাৎকারে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা ক্যাথরিন মার জানিয়েছেন, স্লেটারের অনুরোধ না রাখার পেছনে আইনগত ভিত্তি রয়েছে। যিনি ছবিটি তোলেন তিনি সেটির স্বত্ব পান। এক্ষেত্রে কোনো মানুষ এই ছবিটি তোলেনি। আর যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের তৈরি নয়’ এমন সূত্র থেকে পাওয়া কোনো কাজের স্বত্ব দাবি করা যাবে না। সে অনুযায়ী এখানে আলোকচিত্রীর স্বত্ব নেই, বানরের উপরও স্বত্ব বর্তায় না। আর তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ছবিটির কোনো স্বত্ত্বাধিকারী নেই।

আইনজীবিরা উইকিমিডিয়ার এই যুক্তিকে সমর্থন করলেও সংস্থাটির অনেকেই স্লেটারের পক্ষে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

আর ছবিটির বিষয়ে স্লেটারের বক্তব্য হলো, “ওই ছবি তোলার যাবতীয় আয়োজন ছিল আমার, ক্যামেরাসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি আমার, এমনকি ওখানে যাওয়ার জন্যও প্রচুর অর্থ থরচ হয়েছে আমার। ফলে ওই ছবিতে একমাত্র অধিকারও আমারই হওয়া উচিৎ।”

২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ার বনে ছবি তোলার সময় একদিন ক্যামেরা ও ট্রাইপড সেট করে কিছুক্ষণের জন্য স্লেটার সরে গেলে একদল বানর এসে সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে। আর এভাবেই ‘বানরের সেলফি’র জন্ম নেয় বলেই জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক