‘পরিবেশবান্ধব হওয়ার খবরে’ দাম বাড়ছে ইথেরিয়ামের

ক্রিপ্টো ধসে ৬০ শতাংশের বেশি বাজার মূল্য হারালেও আবার দাম বাড়ছে ক্রিপ্টো মুদ্রা ইথেরিয়ামের।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 08:19 AM
Updated : 18 July 2022, 08:19 AM

বিদ্যুৎ খরচের কারণে বিতর্কিত ক্রিপ্টো মুদ্রা প্ল্যাটফর্মটি কার্যপ্রণালীতে স্থায়ী পরিবর্তন এনে কার্বন নিঃসরণ ৯৯.৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে– এমন খবর প্রকাশের পর ক্রিপ্টো মুদ্রাটির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

রোববারে ইথেরিয়ামের দাম এক হাজার চারশ ডলার ছাড়িয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট।

এক পর্যায়ে চার হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছেছিল ইথেরিয়ামের দাম। কিন্তু বছরের শুরু থেকেই দাম পড়েছে ক্রিপ্টো মুদ্রাগুলোর। এপ্রিল মাসে বাজারে ধস নামার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ক্রিপ্টো মুদ্রাগুলোর একটি ইথেরিয়াম।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কাই ইথেরিয়ামের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে উঠে এসেছে সিনেটের প্রতিবেদনে। বাজার ধসে বৃহত্তম ক্রিপ্টো মুদ্রা বিটকয়েন বছরের শুরুর বাজারদরের ৫২ শতাংশ হারালেও একই সময়ের মধ্যে ৬২ শতাংশ বাজার মূল্য হারিয়েছিল ইথেরিয়াম।

আর নন-ফাঞ্জিবল টোকেন বা এনএফটির বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় ইথেরিয়ামের দরপতনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে এনএফটি বাজারেও।

এই দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে সেপ্টেম্বরেই ‘ইথেরিয়াম মার্জ’ হতে পারে, এমন খবরে। ইথেরিয়াম ব্লকচেইনের নির্মাতা ও সমর্থকদের দাবি, এতে এই ক্রিপ্টো মুদ্রা প্রযুক্তির কার্বন নিঃসরণের হার নেমে আসবে প্রায় শূন্যের ঘরে।

এক কনফারেন্স কলে ‘মার্জ’-এর সম্ভাব্য দিন হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বরকে ধার্য করেছেন এর নির্মাতারা। দিন-তারিখ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা এখনও থাকলেও নির্মাতাদের এ সিদ্ধান্তের খবরেই দাম বাড়তে শুরু হয়েছে ইথেরিয়ামের। ১৭ জুলাইয়ে আগের পাঁচ দিনের তুলনায় ইথেরিয়ামের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ।

সিনেট জানিয়েছে, ‘ইথেরিয়াম মার্জ’-এর ফলে এর মূল ব্লকচেইনটি ‘প্রুফ-অফ-ওয়ার্ক’ প্রক্রিয়া থেকে ‘প্রুফ-অফ-স্টেক’ প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত হবে। সোজা কথায় বললে, ‘প্রুফ-অফ-ওয়ার্ক’- প্রক্রিয়ায় মাইনারদের যে ক্রিপ্টোগ্রাফিক ধাঁধা সমাধান করে নতুন মুদ্রা কামাই করতে হতো, সেটি আর ওই ব্লকচেইনের অংশ থাকছে না। ওই ক্রিপ্টো ধাঁধার সমাধান করতেই ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ খরচ হতো মাইনারদের।

ধারণা করা হচ্ছে, ‘প্রুফ-অফ-ওয়ার্ক’ থেকে ‘প্রুফ-অফ-স্টেক’ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ফলে ইথেরিয়াম ব্লকচেইনের কার্বন নিঃসরণ ৯৯.৬৫ শতাংশ কমে আসবে।

‘প্রুফ-অফ-স্টেক’ প্রক্রিয়া কার্যকর হলে, ক্রিপ্টো ধাঁধা সমাধানের বদলে একটি পুলে ইথার টোকেন জমা করবেন মাইনাররা। প্রত্যেকটি টোকেনকে ভাবা যেতে পারে আলাদা আলাদা লটারি টিকেট হিসেবে। টোকেনের নম্বর ধরে ডাক আসলে পরবর্তী ব্লক যাচাই করার সুযোগ পাবেন মাইনার এবং তার বদলে পুরস্কার হিসেবে নতুন ক্রিপ্টো মুদ্রা কামাই করবেন।

সিনেট জানিয়েছে, ইথেরিয়াম ব্লকচেইনের একদম শুরু থেকেই ‘প্রুফ-অফ-স্টেক’ নিয়ে কাজ করছিলেন এর নির্মাতারা। একাধিকবার এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা হলেও সেটি পিছিয়ে গেছে প্রতিবারেই।

তবে, এই প্রথমবারের মতো প্ল্যাটফর্মে স্থায়ী পরিবর্তন আনার জন্য একটি সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করতে পেরেছেন এর নির্মাতারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক